logo

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার ছক ট্রাম্পের, দিনক্ষণ চূড়ান্ত

দ্য আটলান্টিক
দ্য আটলান্টিক
অ্যাক্সিওস
অ্যাক্সিওস
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার ছক ট্রাম্পের, দিনক্ষণ চূড়ান্ত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (বামে) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে)। ছবি: সানডে গার্ডিয়ান

ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ‘জোরপূর্বক’ বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারমাণবিক কর্মসূচির অজুহাতে পারস্য উপসাগরীয় দেশটির ওপর ব্যাপক হামলার পর রীতিমতো হতাশ হতে হয়েছে তাকে। কারণ মার্কিন এই আগ্রাসন ইরানকে ভেতর থেকে আরও শক্তিশালী করেছে।

উল্টো আমেরিকার ভেতরে নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, তাদের সিংহভাগই এই যুদ্ধের পক্ষে নন। মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নাগরিকদের অসন্তোষের মধ্যে দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। যা আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পুনরায় ইরানে সামরিক হামলা চালানো সম্ভব কি না, সে বিষযে বিভিন্ন বিকল্পের খসড়া তৈরি করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনকে অনুরোধ করেছে হোয়াইট হাউস। অর্থাৎ নির্বাচনের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামকির পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হাঁটতে চাইছেন ট্রাম্প।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দ্য আটলান্টিকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজ হলো প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি ও উপস্থাপন করা।’ তবে ওই কর্মকর্তা নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার পরিধি, লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ও চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। প্রেসিডেন্টের কয়েকজন উপদেষ্টা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম বাড়ার ঝুঁকি এড়াতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলা চালানো কৌশলগতভাবে বেশি উপযোগী হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ‘যে কোনো সময় সব বিকল্পই খোলা আছে। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব ক্ষমতা এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা সর্বোত্তম, তাই করবেন।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে পেন্টাগন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমকে ইরানের বিরুদ্ধে জ্বালানি, অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনায় কোনো নির্দিষ্ট শুরুর তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি সংসদীয় (নেসেট) নির্বাচনের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের দীর্ঘ বৈঠকের পর এই পরিকল্পনা করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বুধবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার পর ট্রাম্প সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় কথোপকথন। পুনরায় কোনো হামলা শুরু হলে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী একযোগে অভিযান চালাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সরাসরি সংঘাত শুরু হয়। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর পর আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-পাল্টা হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সমুদ্রপথে চলাচলের মতো বিষয় নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা থমকে আছে।