logo

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে রেড অ্যালার্ট জারি

এনডিটিভি
এনডিটিভি
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে রেড অ্যালার্ট জারি
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের উপকূলে আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। ছবি: দ্য হিন্দু

ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ক্রমশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় দমকা হওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি ও উঁচু ঢেউ দেখা দিয়েছে। জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজ্যজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করে আইএমডির পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামীকাল বুধবার বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

সংস্থাটির সর্বশেষ বুলেটিনে বলা অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ গত ছয় ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়েছে। এদিন সময় দুপুর ৩টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র একই এলাকায় অবস্থান করছিল।

এ সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, বিশাখাপত্তনম থেকে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মছিলিপত্তনম থেকে ২৩০ কিলোমিটার পূর্বে, বাপাতলা থেকে ৩০০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টি আগামী কয়েক ঘণ্টায় পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এবং পরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। আগমীকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে এটি স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে।

এ সময় ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ একটানা বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আইএমডি।

উপকূলীয় এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি

বিশাখাপত্তনমসহ অন্ধ্রপ্রদেশের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশাখাপত্তনমের কয়েকটি এলাকায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। শহরটির এমভিপি সেক্টর-৩ এলাকায় একটি গাছ পড়ে কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরোনো গাজুয়াকা এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

কোনাসীমা ও কাকিনাড়া জেলার উপকূলীয় এলাকায় বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে। সমুদ্রের পানি বালির বাঁধ ভেঙে রাস্তায় উঠে আসছে। উপকূলীয় গ্রামগুলো থেকে জেলেদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সময় উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইছিল।

অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রখর জৈন জানিয়েছেন, পূর্ব গোদাবরী, পশ্চিম গোদাবরী, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও আনাকাপল্লি জেলায় বুধবার সকাল পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী ১২ ঘণ্টা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রখর জৈন। তিনি কুঁড়েঘর ও অস্থায়ী ঘরে বসবাসকারীদের দ্রুত নিকটবর্তী পুনর্বাসনকেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু উপকূলীয় জেলাগুলোর কালেক্টরদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দ্রুত তা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে। পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত খাবার, পানীয় জল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।