logo

বাংলাদেশ থেকে ইলিশ না পেয়ে হতাশ কলকাতার ব্যবসায়ীরা

কলকাতা ব্যুরো পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
বাংলাদেশ থেকে ইলিশ না পেয়ে হতাশ কলকাতার ব্যবসায়ীরা
ইলিশ মাছ বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছর বাংলাদেশের ইলিশ ভারতে যাওয়ার সম্ভাবনা আর নেই। কারণ, মৌসুম শেষেও মেলেনি রপ্তানির ছাড়পত্র। ফলে পূজার আগে হতাশায় কলকাতার মাছ ব্যবসায়ী থেকে পদ্মা মেঘনার ইলিশের প্রত্যাশায় থাকা বাঙালিরা। ওদিকে গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়াতেও হতাশ ব্যবসায়ীরা।

কলকাতা হয়ে ভারতের গুজরাট থেকে যে ডিমভর্তি ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছিল, সম্প্রতি সেই ইলিশ আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার। যদিও ইতোমধ্যেই প্রায় ৫৫০ টন ডিমভর্তি ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ এর সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানান, ‘আমরা ইলিশের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তার আগেই ভারতের গুজরাট থেকে বাংলাদেশ যে ডিমভর্তি ইলিশ আমদানি করছিল তা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে হচ্ছে যে বাংলাদেশ থেকে পুজো মৌসুমে যে ইলিশ এখানে আসতো, এবার হয়তো সে দেশের সরকার তা পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে।’

২০১২ সালে বাংলাদেশের সাবেক শেখ হাসিনা সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে ২০১৯ সাল থেকে কেবলমাত্র সৌজন্যের খাতিরে দুর্গাপূজা মৌসুমে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ পাঠিয়ে আসছে। গত সাত বছর ধরে এমনটাই হয়ে আসছে।

এবারেও ইলিশ চেয়ে ফিস ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধি দল গত আগস্ট মাসে ঢাকায় যায়। বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইলিশ আমদানি নিয়ে আলোচনায় বসেন। সেখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবারেও বাংলাদেশি ইলিশ পাঠানো হবে।

কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বুধবার বাংলাদেশ সরকার গুজরাট থেকে ইলিশ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এমন এক আবহে সেদেশ থেকেও ইলিশ রপ্তানিতে অনুমতি নাও মিলতে পারে বলে আশঙ্কা।

এর কারণ হিসেবে ফিস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানান, 'হাতে আর সময় নেই। আগামী ৬ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ সরকার সমুদ্রে ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেক্ষেত্রে এবারে হয়তো পুজোর সময় ইলিশের সুস্বাদু পদ থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে বাঙালি।'