হুতির বিরুদ্ধে হামলা চালাতে সৌদির অনুরোধ, নাকচ যুক্তরাষ্ট্রের

ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোকা (মোখা) হুতি বিদ্রোহীদের দখলে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা চালাতে সৌদি আরবের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন—যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হুতি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় সৌদি নেতৃত্ব প্রথমে মিত্র ইয়েমেনি বাহিনীর পিছু হটার বিষয়টি ট্রাম্পকে জানান। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন বিমান হামলার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেন।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। ইরান ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কৌশলগত অবস্থানে মনোযোগ ধরে রাখা এবং নতুন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি না করাই এর কারণ বলে জানা গেছে।
তবে সরাসরি বিমান হামলা না চালালেও সৌদি বাহিনীকে সহায়তার জন্য ‘নন-কাইনেটিক’ বা সরাসরি সামরিক হামলার বাইরে সহযোগিতায় সম্মতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এর আওতায় সৌদি বাহিনীর কাছে ব্যবহারযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে দায়িত্ব পালনরত প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্যের পরামর্শ ও সমন্বয়মূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি এই তথ্য আদান-প্রদান করা হবে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। তিনি দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সৌদি-হুতি উত্তেজনা বাড়ছে
হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুলআজিজ আল-ওয়াসিল বলেন, দক্ষিণ সৌদির বিভিন্ন শহরে চলতি সপ্তাহের শুরুতে হুতিদের হামলায় ৭৩ জন আহত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ‘সব ব্যবস্থা’ নেবে রিয়াদ।
মোকা ও এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অঞ্চলটি বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে অবস্থিত। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী এই প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
২০২২ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর জুলাইয়ের শুরু থেকে ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়েছে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে সরকার ও তাদের মিত্র বাহিনী দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।
২০১৫ সালের মার্চ থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থনকারী একটি জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। হুতিদের ইরানের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যদিও তেহরান এ বিষয়ে তাদের নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরেছে।
