মোজতবা খামেনির শাশুড়ির দাবি/বাবা আলী খামেনির দাফনে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় তার তিন ছেলে সরাসরি অংশ নিলেও জনসমক্ষে দেখা যায়নি আরেক ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনিকে। বলা হয়েছিল, অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হলেও এবার ভিন্ন দাবি করেছেন মোজতবার শাশুড়ি তাইয়েবেহ মাহরুজাদেহ।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদ ও খোরাসান রাজাভি প্রদেশভিত্তিক জনপ্রিয় আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম আখবার মাশহাদকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের সময় মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে মোজতবা খামেনিকে উপস্থিত থাকতে দেখেছি।’
ওই ভিডিও সাক্ষাৎকারে মাহরুজাদেহ বলেন, ‘প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের সময় আমি নিজেই মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে মোজতবা খামেনিকে উপস্থিত থাকতে দেখেছি। ওই রাতেই তার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও সবল অবস্থায় রয়েছেন।’
তাইয়েবেহ মাহরুজাদেহ ইরানের সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার গোলাম-আলি হাদ্দাদ-আদেলের স্ত্রী ও মোজতবা খামেনির প্রয়াত স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেলের মা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনির বাসভবনে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরাও নিহত হন।
পরবর্তীতে জনপ্রিয় আসরিরানসহ রাষ্ট্র-সমর্থিত ইরানি গণমাধ্যমগুলো মাহরুজাদেহর মন্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে। তবে এ সংক্রান্ত খবরের সঙ্গে মোজতবার সাম্প্রতিক কোনো ছবি বা স্পষ্ট অডিও প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে, চলতি বছরের ৯ জুলাই মধ্যরাতে পবিত্র মাশহাদের ঐতিহ্যবাহী ইমাম রেজা মাজারে নিহত আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানের সম্প্রচারিত মূল ফুটেজে মোজতবা খামেনিকে কোথাও দেখা না গেলেও কফিনের পাশে তার বাকি তিন ভাই উপস্থিত ছিলেন। সেই দৃশ্যমান ভিডিও নথিতে অনুপস্থিতির কারণেই বিশ্বজুড়ে মোজতবা আলী খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানামুখী জল্পনা-কল্পনার জন্ম হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই ভয়াবহ হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পর থেকেই গুরুতর আহত মোজতবার স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মার্চের শুরুতেই তাকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
সম্প্রতি সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মোজতবার স্বাস্থ্যের অবনতির খবর উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘তার শরীরে নির্দিষ্ট কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতা নেই। সম্প্রতি আমরা টানা সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জরুরি বৈঠক করেছি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তিনি পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক কাজ করতে সক্ষম।’
রয়টার্সসহ একাধিক পশ্চিমা গণমাধ্যম গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে দাবি করেছিল যে, হামলার ঘটনায় মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল ও পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে। এমনকি চেহারা বিকৃত হওয়ায় তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ছে।
তবে ইরানি প্রশাসন ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ ধরনের খবর অস্বীকার করে বলে আসছেন, তার আঘাত ছিল অত্যন্ত সামান্য এবং তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ। মূলত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধানের স্বার্থেই দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে এখনো প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞ পরিষদের এক সদস্য আরও জানান যে, একটি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অত্যন্ত অলৌকিকভাবে মোজতবাকে উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

