ভারতে ৭ মাসে ঘৃণাজনিত অপরাধে ৪৪ মুসলিম নিহত

বিজেপি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ভারতে ঘৃণাজনিত অপরাধ ও নির্যাতনে মোট ৪৪ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জনের মৃত্যুর জন্য উগ্র হিন্দুত্ববাদী হামলাকারীরা দায়ী ও ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে।
মানবাধিকার সংস্থা সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন পরিচালিত ‘ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নিহতদের মধ্যে ১১ বছরের এক শিশু ও ১৬ বছরের এক কিশোরও রয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের মে থেকে জুলাই মাসে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধে অন্তত ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের হামলায় এবং ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে ও হেফাজনে নিহত হয়েছেন।
ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকারের মতে, মে থেকে জুলাই মেয়াদের মধ্যে দেশটির ছয়টি রাজ্যে অন্তত ২৩টি মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আটটি রাজ্যে অন্তত ২১টি উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজারের বেশি মুসলিমদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়।
উত্তরপ্রদেশ, আসাম, জম্মু-কাশ্মীর ও পশ্চিমবঙ্গে ভুয়া পুলিশি সংঘর্ষ (এনকাউন্টার), হেফাজতে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের বহু ঘটনা নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি।
পশ্চিমবঙ্গে মসজিদ ও মুসলিমদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলায় অন্তত দুজন নিহত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আসামে তথাকথিত ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক বহিষ্কার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মুসলিম নাগরিকদের অধিকার খর্বকারী নতুন আইন ও নীতি গ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশটির কতিপয় রাজনৈতিক নেতার ক্রমাগত মুসলিমবিরোধী উসকানিমূলক মন্তব্য ও ঘৃণা ছড়ানোর কারণে বৈষম্যমূলক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এসব বক্তব্য সাধারণ মুসলিম নাগরিকদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

