logo

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ ৬০ দিনের জন্য স্থগিত করলেন ট্রাম্প

এএফপি
এএফপি
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ ৬০ দিনের জন্য স্থগিত করলেন ট্রাম্প
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলছেন। ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ৬০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময়ে এসব পদক্ষেপের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করা হলে তা বিশ্ব অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা মূল্যায়নের জন্য ট্রাম্প ৬০ দিন সময় নিতে চান। তার মতে, এসব বিধিনিষেধের প্রভাব শুধু রাশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; অন্যান্য দেশও এর ফলে অর্থনৈতিক চাপে পড়তে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত জ্বালানির বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে বলেও মন্তব্য করেন রুবিও। এ প্রসঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত এখন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের আন্তর্জাতিক বাজার ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

শনিবার রাতে ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে তিনি মনে করেন। তবে এ বিষয়ে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট করেননি তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করা হবে এবং সিদ্ধান্তের সুফল সম্পর্কে পরে জানা যাবে।

গত মাসে কংগ্রেসে অনুমোদিত রাশিয়াবিরোধী কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের পরিকল্পনা থেকে দেশটিকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে শুক্রবার রাতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। আইন অনুযায়ী, চলতি মাসেই এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই সমালোচনা দেখা দিয়েছে। রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ধনকুবের ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার বিধান ছিল ওই আইনে। এর মূল লক্ষ্য ছিল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠদের অর্থের জোগান কমানো এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল করা।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস ও টেড ক্রুজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে টিলিস ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, জ্বালানির দাম কমাতে চাইলে পুতিনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিবর্তে ইরান-সংক্রান্ত সংকট সমাধানে মনোযোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, ফক্স নিউজে দেওয়া মন্তব্যে সিনেটর ক্রুজ এ সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার পরই ট্রাম্প এ নির্বাহী আদেশ দেন। সমঝোতার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। দেশটির সড়কপথে পণ্য পরিবহন, কৃষি ও নির্মাণ খাতে ডিজেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। একই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী মাসে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরিস্থিতি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন জনমত জরিপেও দলটির নির্বাচনি বিপর্যয়ের আশঙ্কা উঠে এসেছে।

রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির বিষয়ে রুবিও বলেন, পুতিন যে ডিজেল বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন, তা কোনো না কোনোভাবে বিশ্ববাজারে আসতই। মূল প্রশ্ন হলো, সেই জ্বালানির কতটা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পৌঁছাত।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে রাশিয়ার ওপর থেকে আরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারে। তার মতে, ট্রাম্পের বর্তমান পদক্ষেপ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে পুরস্কৃত করারই শামিল।