দিল্লির জামিয়া ইসলামিয়ায় শিক্ষার্থী-পুলিশের সংঘর্ষ, ‘ফ্রি কাশ্মীর’ স্লোগান

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিলুপ্ত থাকা ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল ও নির্বাচনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বিক্ষোভ দমাতে কঠোর অবস্থান নিলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। অনশনরত শিক্ষার্থীদের তাঁবু উপড়ে ফেলার চেষ্টাকে কেন্দ্র হয়ে ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফলে সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
আর সেই উত্তেজনার মধ্যে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে ও মিছিলে ‘ফ্রি কাশ্মীর’, ‘ফ্রি শারজিল ইমাম’-এর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল স্লোগান বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা বলবৎ থাকবে বলেও নোটিশে বলা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১২ অক্টোবর থেকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ছাত্র সংসদ (জেএমআইএসইউ) নির্বাচনের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় নিরাপত্তাকর্মীরা।
এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওই তাঁবুর ভেতরেই গত ১২ অক্টোবর থেকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন পুনর্বহালের দাবিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালে দেওয়ালে সাঁটানো পোস্টারের স্লোগান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
‘ফ্রি কাশ্মীর’-এর পাশাপাশি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) পিএইচডি গবেষক ও শিক্ষার্থী অধিকারকর্মী শারজিল ইমামের মুক্তির দাবিতে এসব স্লোগান সম্বলিক পোস্টার দেওয়া দেওয়া সাঁটানো হয়েছে। শারজিল ইমাম ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগ ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে দেশটির তিহার জেলে বন্দি আছেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ক্যাম্পাসে গেলে দিল্লি পুলিশতাঁকে আটক করে। তবে ইমরান মাসুদ বিতর্কিত পোস্টারগুলোর সঙ্গে নিজের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, “সেখানে ‘ফ্রি কাশ্মীরের’ পক্ষে কোনও স্লোগান দেওয়া হয়নি, একটিও নয়। আমি সকলের সামনে দাঁড়িয়ে এ ধরনের স্লোগানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছি এবং বলেছি, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
এদিকে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানও বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লি ক্যাম্পাসে ১০৬তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ‘তালিমি মেলা ২০২৬’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে চলতে থাকা বিক্ষোভের জেরে আয়োজন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।


