শিক্ষক দম্পতিকে নৃশংসভাবে হত্যা, স্কুল মাঠে মিলল ক্ষতবিক্ষত মরদেহ

দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যার শিকার হয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশে সুলতানপুরের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার শিক্ষিকা স্ত্রী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি বেসরকারি বিদ্যালয় মাঠের এক পাশে ওই শিক্ষক দম্পতির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশে খবর দেন তারা।
নিহতরা হলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুকেশ সিং (৪৮) ও তার স্ত্রী বিনীতা সিং (৪৫)। মুকেশ সিং কম্পোজিট বিদ্যালয় খানুহাটের প্রধান শিক্ষক ও মোতিগড়পুর প্রাথমিক শিক্ষক সংঘের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
অন্যদিকে তার স্ত্রী বিনীতা ছিলেন একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। কাদিপুর থানা এলাকার কুম্ভী ডাডিয়া গ্রামের একটি বেসরকারি বিদ্যালয় চত্বরে মাঠের এক পাশেই ওই দম্পতি বসবাস করতেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সোমবার রাতের কোনো একসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা কুড়াল ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, প্রথমে ঘরে ঢুকে বিনীতাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সে সময় প্রাণ বাঁচাতে মুকেশ সিং পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে আক্রমণ চালানো হয়। ঘরের চৌকাঠের কাছে বিনীতার মরদেহ এবং সেখান থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে খোলা মাঠে মুকেশের মরদেহ পাওয়া যায়। উভয়ের মাথা, মুখ, গলা ও পিঠে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতাসহ সব ধরনের বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, নিহত মুকেশ সিং শিক্ষক সংগঠনের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তার স্ত্রীও আগে জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিরোধের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।
সুলতানপুরের পুলিশ সুপার বিনীত জয়সওয়াল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বৃজ নারায়ণ সিং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
