logo

যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিখোঁজ ১৬৩ শিশু উদ্ধার, রয়েছে ২ মাসের বাচ্চাও

টিআরটি ওয়ার্ল্ড
টিআরটি ওয়ার্ল্ড
যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিখোঁজ ১৬৩ শিশু উদ্ধার, রয়েছে ২ মাসের বাচ্চাও
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পাঁচ দিনের বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ১৬৩ শিশুকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: সামাজিক মাধ্যম থেকে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পাঁচ দিনের বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ১৬৩ শিশুকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ‘অপারেশন স্টেটওয়াইড শিল্ড’ নামের এ অভিযানে উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স দুই মাস থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

Advertisement

১৭ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত চলা অভিযানটি ফ্লোরিডার ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে বড় অভিযান বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শিশু উদ্ধারের অভিযানগুলোর একটি এটি।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার ও ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্টের (এফডিএলই) কমিশনার মার্ক গ্লাস টাম্পায় এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এফডিএলই কমিশনার বলেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া শিশুদের অনেকেই যৌন নির্যাতন, অবহেলা, শোষণ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের শিকার হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ঘটনাগুলো কোনো একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার বলেন, অনেক শিশুই এমন ব্যক্তিদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যারা দুর্বল শিশুদের টার্গেট করে।

উদ্ধারের পর যেসব শিশুর তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন, তাদের বিশেষায়িত কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সহায়তা এবং ভুক্তভোগী হিসেবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযানে ফ্লোরিডার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিশুদের উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে টাম্পা বে এলাকা থেকে ৪৬ জন, মায়ামি থেকে ৪১ জন, জ্যাকসনভিল থেকে ৩২ জন, অরল্যান্ডো থেকে ২১ জন, ফোর্ট মায়ার্স থেকে ১২ জন, পেনসাকোলা থেকে আটজন এবং টালাহাসি থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুধু ফ্লোরিডাতেই অভিযান সীমাবদ্ধ ছিল না। আরও ছয়টি অঙ্গরাজ্য—আলাবামা, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও টেনেসি—থেকেও শিশুদের শনাক্ত বা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া পুয়ের্তো রিকো এবং ১২টি বিদেশি দেশ থেকেও নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, কানাডা, কলম্বিয়া, জ্যামাইকা ও মেক্সিকো।

অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নির্যাতন, শিশুদের ওপর হামলা এবং শিশুর হেফাজতসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মাইকেল প্রেসকট, রবার্ট অ্যালিসন ও জেডেন হারউড। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলা শুরু হয়েছে। তদন্ত চলায় সামনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।

অভিযানে শিশুদের শনাক্ত করতে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম ব্যবহার করা হয়।

অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া শিশুদের ছবি ও কর্মকর্তাদের সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিও ঘিরে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে কিছু পোস্টে টেসলার প্রধান নির্বাহী ও এক্সের মালিক ইলন মাস্ককে ট্যাগ করে ফ্লোরিডায় ১৬৩ শিশু উদ্ধারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এসব পোস্টে তিনজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষকে গ্রেপ্তারের কথাও উল্লেখ করা হয় এবং এ বিষয়ে মাস্কের কোনো মন্তব্য না করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাজ্যে শিশুদের যৌন নিপীড়ন ও শোষণের পুরোনো ঘটনাগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সরব ছিলেন মাস্ক। এ কারণে ফ্লোরিডার শিশু উদ্ধারের ঘটনায় তার নীরবতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে মাস্কের এই ঘটনায় কোনো মন্তব্য না করার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা মূল অভিযানের সরকারি তথ্যের অংশ নয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিখোঁজ ১৬৩ শিশু উদ্ধার, রয়েছে ২ মাসের বাচ্চাও