হঠাৎ বন্যায় ভেসে গেল নেপালের দুই গ্রাম, নিখোঁজ ৫

নেপালের মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন। বন্যার পানিতে অন্তত দুটি গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ভেসে গেছে বেশ কয়েকটি সেতু ও বহু ঘরবাড়ি। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের গোরখা জেলায় রোববার এ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। নিখোঁজ পাঁচজনকে রাখাল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় ১০০টি গরুরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চুমানুব্রি গ্রামীণ পৌরসভা। পৌরসভার চেয়ারম্যান নিমা লামা জানিয়েছেন, বন্যায় অন্তত দুটি গ্রাম পুরোপুরি ভেসে গেছে এবং কয়েকটি সেতু ধ্বংস হয়েছে। গোরখা জেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় ২০৪টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৬৫০ জনের বেশি মানুষ এর শিকার হয়েছেন। এখন পর্যন্ত নয়জন বিদেশিসহ ৯৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজে ৭০০ জনের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে চারটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে নেপালের সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকাশপথে দুর্গত এলাকা পর্যবেক্ষণের পর তারা জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, ভূমিধসের কারণে নদীর উজানে পানি আটকে গিয়ে এ বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
তবে আকস্মিক বন্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারও কারও ধারণা, ভূমিধসে বুধি গণ্ডকী নদী বা এর কোনো শাখার গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে জমে থাকা পানি হঠাৎ বেরিয়ে এসে বন্যার সৃষ্টি করে। আবার হিমবাহ ধসে কাদামাটির প্রবাহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ঘন মেঘের কারণে উপগ্রহচিত্র থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
বন্যার পর আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জগৎবগরের বাসিন্দা গণেশ কার্কি কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, ভোরে বন্যার সতর্কবার্তা পেয়ে তারা বাড়িঘর ছেড়ে পাহাড়ের ওপর প্রায় ৫০০ মিটার দূরে আশ্রয় নেন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে দফায় দফায় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছিল।
তিনি জানান, এত বড় বন্যা কখনো কল্পনাও করেননি। রাতে বাড়িতে ফিরতেও ভয় পাচ্ছেন তারা।
গোরখা জেলার আরুঘাট গ্রামীণ পৌরসভার কর্মকর্তা টেক বাহাদুর অধিকারী বিবিসিকে বলেন, বাসিন্দারা এখন বাড়িতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন না। আগে তারা মনে করতেন, ভারী বৃষ্টি হলেই বন্যা হতে পারে। কিন্তু এবার বৃষ্টি ছাড়াও এমন বন্যার ঘটনা তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
দুই মাস আগে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর নতুন এই দুর্যোগ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ওই দুর্যোগে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
