logo

ভারতের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ, সিইসির বিরুদ্ধে মামলা

এনডিটিভি
এনডিটিভি
ভারতের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ, সিইসির বিরুদ্ধে মামলা
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ছবি: ডিডিনিউজ

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে ভারতের চলমান তীব্র রাজনীতিক বিতর্কের মধ্যে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিমে কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেশটির নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী। অভিযোগপত্রে অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা মতামত না নিয়েই নির্বাচন প্রক্রিয়া-সম্পর্কিত বেশকিছু একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার।

মামলায় সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন নির্দেশিকা ও সফটওয়্যারের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলোকে পুরোপুরি ‘অসাংবিধানিক ও বেআইনি’ ঘোষণা করে তা বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে মূল ‘ফর্ম ৬’ বহাল রাখার দাবিও জানানো হয়।

এতে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালে কী প্রক্রিয়ায় দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে কর্তব্যে চরম অবহেলার অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার, সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মনীশ গার্গ এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মহাপরিচালক সীমা খান্নার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করা হয়।

এর আগে, ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকার এসআইআরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী এসআইআরসংক্রান্ত নানা বিতর্কিত আদেশ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত ও মৌখিক আপত্তি জানান, যার মধ্যে ‘ফর্ম ৬’ পরিবর্তন ও ভোটারের তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে সংবাদমাধ্যমটির ওই প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, গত এক বছরে গৃহীত তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তই সর্বসম্মত ছিল। কমিশন জানায়, ‘যে কোনো স্বায়ত্তশাসিত বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নীতি নির্ধারণী আলোচনার ক্ষেত্রে ভিন্ন মতামত, পর্যবেক্ষণ ও তর্ক-বিতর্ক থাকাটা একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।’

এদিকে গণমাধ্যমের এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই ভারতের বিরোধী দলগুলো সিইসির বিরুদ্ধে একযোগে সোচ্চার হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।

রাহুল গান্ধী অত্যন্ত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারতের শত বছরের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা কংগ্রেস বা বিরোধী জোট কোনোভাবেই নিরব দর্শক হয়ে বসে দেখবে না। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক অভিজিত দীপকেও সিইসির পদত্যাগ দাবি করেন।