logo

নেপালে ফের আকস্মিক বন্যা, নিরাপদ স্থানে সরানো হলো বাসিন্দাদের

এপি
এপি
নেপালে ফের আকস্মিক বন্যা, নিরাপদ স্থানে সরানো হলো বাসিন্দাদের
উত্তর-মধ্য নেপালের বুধি গণ্ডকী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা রোববার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন; আকস্মিক বন্যায় ওই এলাকার ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি: এপির ভিডিও থেকে নেওয়া

নেপালের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বুধি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যাওয়ার পর রোববার স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) এ উদ্যোগ নেয়।

একই সঙ্গে নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোববার রাত পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বুধি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। নদীটি ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে এবং রাজধানী কাঠমান্ডুর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোর একটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়ঘেরা উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি বয়ে যাচ্ছে। সেই স্রোতে ভেসে যাচ্ছে বাড়িঘর ও ছোট ছোট স্থাপনা। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের কতটি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সরকারি সতর্কবার্তার পর কাঠমান্ডুর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সংযোগকারী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত নদীতীরবর্তী শহর আরুঘাটের বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে।

এর আগে গত আগস্টে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। সেই বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা এখনো চলছে।

সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কার্যালয় অতিরিক্ত নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে। এখন উদ্ধার তৎপরতার পরিবর্তে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু পুনরায় সচল করার ওপর জোর দেবে সরকার। দুর্গম এলাকায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠনে প্রায় ৪৭৭ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। এ দুর্যোগে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

নতুন করে বুধি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যার ঘটনায় নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনপদে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।