logo
রাশিয়ার তীব্র আক্রমণ

আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয় করল ন্যাটোভুক্ত এক দেশ

ডেইলি এক্সপ্রেস
ডেইলি এক্সপ্রেস
আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয় করল ন্যাটোভুক্ত এক দেশ
রাশিয়ার তীব্র হামলার মুখে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে পোল্যান্ড। ছবি: গ্লোবসেক

রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সংঘাত আরও জোরালো হওয়ার মুখে ইউরোপজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তীব্র রূপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজ দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম সক্রিয় করেছে পোল্যান্ড।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ন্যাটোভুক্ত দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে উল্লেখ করে, ‘এই পদক্ষেপগুলো মূলত প্রতিরোধমূলক। এর মূল লক্ষ্য হলো পোল্যান্ডের আকাশসীমা, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের সংলগ্ন এলাকাগুলো সুরক্ষিত রাখা। সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড সার্বক্ষণিক বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অধীনস্থ বাহিনী ও সরঞ্জামাদি যে কোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’

ইউক্রেন সীমান্তবর্তী পোল্যান্ড এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নিল, যখন ইউক্রেনের ছয়টি অঞ্চলের বিদ্যুৎ স্থাপনায় এক রাতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় দেশটিতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি পোলিশ আকাশসীমায় বারবার রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশের ঘটনার পর পোল্যান্ডসহ ইউক্রেনের মিত্রদেশগুলো তাদের নিজ নিজ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে শুরু করে।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক নিশ্চিত করেছিলেন, ইউক্রেনে রাতভর রাশিয়ার হামলার সময় পোলিশ ও ন্যাটোর যুদ্ধবিমান তিনটি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করে। এ ছাড়া সম্প্রতি রাশিয়ার একটি এমআই-৮ সামরিক হেলিকপ্টার পোল্যান্ডের কালিনিনগ্রাদ ছিটমহল থেকে এসে দেশটির ব্রানিয়েভো শহরের উত্তরে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে অনুপ্রবেশ করলে পোল্যান্ড তড়িঘড়ি যুদ্ধবিমান পাঠায়।

এদিকে এই উত্তেজনা কেবল পোল্যান্ডেই সীমাবদ্ধ নেই; কৃষ্ণসাগরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে রাশিয়ার উত্তেজনা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর ড্যান।

শুক্রবার রোমানিয়ার নৌ কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের জলসীমার কাছে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের ১৩ জন ক্রুর মধ্যে ৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন মারা গেছেন। বাকিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। ক্রু সদস্যদের মধ্যে ১০ জন ইউক্রেনীয় ও ৩ জন আজারবাইজানের নাগরিক।

অন্যদিক, জার্মানির ফেডারেল কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, রাশিয়ার পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভাদিম ওয়াই নামের এক ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রতিরক্ষা কার্যক্রম এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কিত গোপনীয় তথ্য রুশ গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।