logo

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

এপি
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ফেসবুক পেজ থেকে

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করা বা বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে থাকা ২ লাখ বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা হবে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

Advertisement

এপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি ও দুই মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া বি-১ ও বি-২ ভিসাগুলো পর্যালোচনা করে বাতিলের ঘোষণা আসতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক কাজে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য দেওয়া হয়। আর বি-২ ভিসা পর্যটন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা কিংবা চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, যারা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের অ-অভিবাসী ভিসা শনাক্ত ও বাতিল করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

তবে ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল করা হবে, সে সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পিগট বলেন, প্রক্রিয়াটি চলমান থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে ভিসা বাতিল করা হবে। ফলে সংখ্যাটিও পরিবর্তিত হতে পারে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে না।

যাদের আশ্রয়ের আবেদন বর্তমানে বিচারাধীন, তাদের অনেককে নতুন অভিবাসন মর্যাদায় শ্রেণিবদ্ধ করা হতে পারে। তবে তারা আর ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য দেওয়া বি-১ বা বি-২ ভিসার আওতায় থাকবেন না।

প্রশাসনের এই পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ও অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই, কিছু দেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ এবং নির্দিষ্ট দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য বড় অঙ্কের জামানতসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদনকারীদের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের মানুষ ‘ভিত্তিহীন আশ্রয়ের আবেদন’ নিয়ে বিরক্ত। তার ভাষায়, আশ্রয়ব্যবস্থা অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার কোনো পথ হওয়া উচিত নয়।

ল্যান্ডাও কলম্বিয়ার এক নাগরিকের উদাহরণও দেন। ওই ব্যক্তি ২০১৫ সালে পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।

এপি জানিয়েছে, গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। এসব ভিসাধারীর বিরুদ্ধে মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও ডাকাতির মতো অপরাধে দণ্ডিত হওয়া বা অভিযুক্ত হওয়ার তথ্য ছিল।

এ ছাড়া বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে মার্কিন নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করা কিছু ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ বন্ধের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ব্যবস্থায় বিদেশি গর্ভবতী নারীরা সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তানের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে দাবি করে প্রশাসন।

ট্রাম্প কয়েক দফায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার চেষ্টা করলেও আদালতগুলোতে তা বাধার মুখে পড়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাওয়া নথি অনুযায়ী, বর্তমান বি-১ ও বি-২ ভিসাধারীদের মধ্যে কারা আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয় ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস থেকে আশ্রয়ের আবেদনের তথ্য পাওয়ার পর।

বর্তমানে বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনকারীদের নিশ্চিত করতে হয় যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করবেন না। একই সঙ্গে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অভিপ্রায়ের প্রমাণও দিতে হয়।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র