logo

ইরান-ইউক্রেনসংক্রান্ত গোপন নথি ফাঁস, বিচারের মুখে মার্কিন জেনারেল

অ্যাক্সিওস
অ্যাক্সিওস
ফক্স নিউজ
ফক্স নিউজ
ইরান-ইউক্রেনসংক্রান্ত গোপন নথি ফাঁস, বিচারের মুখে মার্কিন জেনারেল
পেন্টাগনের প্রধান পরিকল্পনাকালী লেফটেন্যান্ট জেনালের ব্রেট সিলভিয়া। ছবি: ফক্স নিউজ

ইরান ও ইউক্রেন বিষয়ে মার্কিন নীতিসংক্রান্ত অতিসংবেদনশীল গোপন তথ্য সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করার কথা স্বীকার করেছেন পেন্টাগনের সাবেক জ্যেষ্ঠ কৌশলবিদ, মার্কিন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়া। তথ্য ফাঁসের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পেন্টাগন। আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ফক্স নিউজ।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, টানা চারটি পলিগ্রাফ (মিথ্যা শনাক্তকরণ) পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে তথ্য ফাঁসের সত্যতা স্বীকার করেন সিলভিয়া। পরবর্তীতে গতকাল বৃহস্পতিবার বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে পদ থেকে অপসারণ করেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ।

পেন্টাগনের তদন্তকারীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতি অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে সিলভিয়া ‘গণমাধ্যমের কাছে অননুমোদিতভাবে সরকারের গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করেছিলেন’। পদচ্যুত হওয়া সিলভিয়া পেন্টাগনের জয়েন্ট স্টাফে কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিবিষয়ক পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকল্পনার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে প্রকাশ, ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে এই তথ্য ফাঁসের ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর মধ্যে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ‘সিগন্যাল’-এর মাধ্যমে আদান-প্রদান করা বার্তা ও ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে নৈশভোজে বৈঠকের বিষয় রয়েছে।

তদন্তকারীরা আরও জানান, একটি গোপন নথি থেকে হাতে লেখা নোটের মাধ্যমে ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার স্পর্শকাতর বিবরণও এক সাংবাদিকের কাছে প্রকাশ করেছিলেন সিলভিয়া।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্রেট সিলভিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে সম্ভাব্য বিচারের জন্য পুরো মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পার্নেল লিখেছেন, ‘শ্রেণিবদ্ধ বা গোপনীয় তথ্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক কিংবা পেশাগত সুবিধার জন্য এ ধরনের জাতীয় নিরাপত্তার তথ্য ফাঁস করা অর্পিত দায়িত্বের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।’

কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি আরও বলেন, ‘গোপন তথ্য সুরক্ষায় আমাদের প্রতিশ্রুতি কোনো ফাঁকা বুলি ছিল না। অপরাধীকে খুঁজে বের করার যে শপথ আমরা নিয়েছিলাম, তা সততার সঙ্গেই পূরণ করেছি।’