logo

ভারত-সমর্থিত ৭ সন্ত্রাসীকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের

জিও নিউজ
জিও নিউজ
ভারত-সমর্থিত ৭ সন্ত্রাসীকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের
বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার একটি রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে ভারত-সমর্থিত সাত সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা সূত্র।

শুক্রবার নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সন্ত্রাসীদের আস্তানাগুলোও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্র আরও জানিয়েছে, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পরিকল্পনার আওতায় সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

এর এক দিন আগে বেলুচিস্তানের কাচ্চি জেলায় ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর বিরুদ্ধে অভিযানে ছয় জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল নিরাপত্তা সূত্র।

সূত্রের দাবি, ‘অপারেশন রাদ্দ-উল-ফিতনা ৩’-এর আওতায় কাচ্চি জেলার সানি এলাকায় কোয়াডকপ্টারের মাধ্যমে ওই জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

অভিযান শেষে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তানে, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে ইসলামাবাদ দাবি করে আসছে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানে ১২ বছরের মধ্যে এক মাসে সবচেয়ে বেশি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে ২২৫টি জঙ্গি হামলা রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগস্টের ১৯৯টি হামলার তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। টানা তৃতীয় মাসে জঙ্গি হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলেও তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে তাদের ভূখণ্ড সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাকিস্তানে হামলার জন্য ব্যবহার করা ঠেকানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার জন্য দায়ী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কাবুল কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে আসছে।