logo

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ২৮৯

কাঠমান্ডু পোস্ট
কাঠমান্ডু পোস্ট
রয়টার্স
রয়টার্স
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ২৮৯
ভোটেকোশি নদীর উজানে থাকা বন্যা-পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোও বন্যার তোড়ে ভেসে গেছে। ছবি: কাঠমান্ডু পোস্ট

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ি নদীর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। মর্মান্তিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে নেপাল ও চীনের তিব্বত অংশ মিলে অন্তত ৭০০ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।

Advertisement

দেশটির পুলিশ নিশ্চিত করেছে, বুধবারে (২৬ আগস্ট) শুরু হওয়া এই প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৮৯ জনে পৌঁছেছে।

নেপালি পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে সংশোধিত এই প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া বহু বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয় অধিবাসীর সঙ্গে এখনও সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ভাটির জেলা চিতওয়ানে ১০৮টি, পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ৬২টি, ধাডিংয়ে ২৭টি, গোর্খায় ২০টি, রাসুয়ায় ১৭টি, পশ্চিম নওয়ালপরাসিতে ১৫টি, নুয়াকোটে ১২টি এবং তানাহুনে ৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ৮২৬ জন সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

তাদের মধ্যে উদ্ধার ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৪৪ জন নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্য, ২৮ জন নেপাল পুলিশের সদস্য এবং ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এ ছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা পর্যটকদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১২৭ জন নেপালি পর্যটক রয়েছেন।

তবে রয়টার্স জানিয়েছে, পাহাড়ি নদীর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনে। তাদের মধ্যে নেপাল ও চীনের তিব্বত অংশ মিলে অন্তত ৭০০ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। নিখোঁজের তালিকায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের নাগরিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, অন্তত ১৭৭ জন।

উত্তরাঞ্চলীয় রাসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর ওপর দিয়ে বন্যা ধেয়ে আসার পর পানি ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী প্রণালী ধরে তীব্র বেগে ভাটির দিকে প্রবাহিত হয়। এতে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জনবসতি, সংযোগ সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।

বর্তমানে নেপালের সরকারি সংস্থা ও যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ২৮৯