logo

ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদনের যোগ্য কি না, জানা যাবে আজ

ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদনের যোগ্য কি না, জানা যাবে আজ
ছবি: এআই জেনারেটেড

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিবি) বা জনপ্রিয় গ্রিন কার্ড লটারি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন ফেডারেল আদালত। এতে বহু অপেক্ষমাণ আবেদনকারী দেশটিতে স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার এই সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।

মার্কিন ফেডারেল আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৭ সালের ডিভি লটারি কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নতুন বিজ্ঞপ্তির সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে সরাসরি আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে।

তবে এবারের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না, তা জানতে অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)।

বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফোর্বস।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি অভিবাসন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে স্থায়ীভাবে দেশটিতে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম তারাই এতে অংশ নিতে পারে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তিরা ‘গ্রিন কার্ড’ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী নাগরিকত্ব পান।

২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এই লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে উচ্চ অভিবাসন সংখ্যার কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিরা এই ডিভি লটারির বাইরে রয়েছে।

এবার যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে সারা দেশের উৎসাহী আবেদনকারীদের নজর এখন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশ করা তালিকার দিকে।

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ অভিবাসন হারের কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে অভিবাসনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

ডিবি প্রোগ্রামের জন্য বর্তমানে অযোগ্য দেশের মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, চীন (মূল ভূখণ্ডের জন্ম), কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, হাইতি, ভারত, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য (উত্তর আয়ারল্যান্ড বাদে) এবং এর নির্ভরশীল অঞ্চল এবং ভিয়েতনাম।

ডিভি লটারিতে সাধারণত আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। এর বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু পেশায় নির্ধারিত বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে অবিলম্বে এই লটারি প্রক্রিয়া সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুযায়ী, ডিভি লটারির যাবতীয় যোগ্যতার শর্তাবলি ও নির্দেশিকা ২৯ অক্টোবর প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

এরপর আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ৩০ দিন পর্যন্ত অর্থাৎ ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। আবেদনের প্রক্রিয়া শেষে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজয়ীদের নাম ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে চূড়ান্তভাবে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করার জন্য ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে।

২০২৫ সালের শেষের দিকে ডিভি লটারির আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর ‘রেড ইগল ল’ নামক একটি আইনি সংস্থা আদালতের শরণাপন্ন হয়। যার ভিত্তিতে আদালত দ্রুততম সময়ে নিবন্ধন শুরুর নির্দেশ দেন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ডিভি লটারির এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া কতখানি নিরবচ্ছিন্ন থাকবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।