logo

নানা সমালোচনার মধ্যে মালয়েশিয়া সফরে মিয়ানমারের মিন অং হ্লাইং

ওয়াশিংটন পোস্ট
ওয়াশিংটন পোস্ট
নানা সমালোচনার মধ্যে মালয়েশিয়া সফরে মিয়ানমারের মিন অং হ্লাইং
মালয়েশিয়া যাত্রার সময় নেপিদো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাত নেড়ে বিদায় জানাচ্ছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। ছবি: এপি

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারপ্রধান মিন অং হ্লাইং দুই দিনের সফরে বুধবার মালয়েশিয়া গেছেন। সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক সংলাপেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভি জানায়, বুধবার সকালে নেপিদোর সামরিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন মিন অং হ্লাইং।

তবে তার এই সফরের সময়ই মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত পাঠানো নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ তীব্র হয়েছে।

প্রায় ১,৫০০ জনের প্রত্যাবাসন

মিন অং হ্লাইংয়ের সফরের মাত্র চার দিন আগে প্রায় ১,৫০০ মিয়ানমার নাগরিক মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে গেছেন। এই প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সতর্কতা জানিয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে এখন সংঘাত ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেশে ফেরত যাওয়া ব্যক্তিরা নিপীড়নের শিকার হওয়ার পাশাপাশি জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।

মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিক ধাপে ধাপে দেশে ফিরে যেতে সম্মত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষ নাগাদ বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্রে ১১ হাজার ৮০৪ জন মিয়ানমার নাগরিক ছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক প্রত্যাবাসনের তালিকায় নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রোহিঙ্গা নিয়ে উদ্বেগ

মালয়েশিয়ায় ইউএনএইচসিআর-এর নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজারই রোহিঙ্গা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠী।

মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলে দেশটি শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিক মর্যাদা না দিয়ে তাদের অনথিভুক্ত অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে।

রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটিতে তাদের নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। চাকরি, সরকারি সেবা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রত্যাবাসন উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতেই এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। তার মতে, মালয়েশিয়া অনির্দিষ্টকাল শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে পারে না এবং মিয়ানমারকে তার নাগরিকদের দায়িত্ব নিতে হবে।

আসিয়ানে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর মিয়ানমারের সঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সশস্ত্র প্রতিরোধ ও গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আসিয়ান এখনও মিয়ানমারের সামরিক সরকারের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে দূরে রেখেছে। তবে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের চেষ্টা করছেন।

মালয়েশিয়া সফরটি আসিয়ানভুক্ত কোনো দেশে তার পঞ্চম সফর। এর আগে তিনি লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া সফর করেছেন।

তবে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তার মালয়েশিয়া সফর নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ACLED-এর বিশ্লেষক সিন্ডি আজারার আশঙ্কা, শরণার্থী ইস্যুতে সহযোগিতার মাধ্যমে এমন বৈঠক মিন অং হ্লাইংয়ের প্রশাসনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের একটি কার্যকর সমাধান ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি বলে তিনি মনে করেন।