logo

ডিভি লটারির আদেশ আটকে গেল আদালতে

ডিভি লটারির আদেশ আটকে গেল আদালতে
ছবি: এআই জেনারেটেড

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি পুনরায় চালুর আদেশ দিয়েছিলেন দেশটির একটি নিম্ন আদালত। তবে সেই আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত।

এর ফলে আপিল আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ডিভি লটারি সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে নিউইয়র্ক-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইক।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট কোর্ট অব অ্যাপিলসের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সরকারের জরুরি আবেদনের ভিত্তিতে ওই স্থগিতাদেশ জারি করে।

নিম্ন আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে সেদিনই ডিভি লটারির প্রক্রিয়া ঘোষণা করতে হতো।

মার্কিন ডিভি লটারি নিয়ে আইনি লড়াইরত রেড নামক সংস্থার প্রধান কার্টিস মরিসন মার্কিন নিউজউইককে বলেন, ‘ডিভি প্রোগ্রাম পরিচালনায় পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রেড ইগল দ্রুতই অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘আমরা লটারির নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করতে পররাষ্ট্র দপ্তরের এই ব্যর্থতাকে সমর্থন করছি না। তবে রেড ইগল এই মামলায় তাদের সপক্ষে যথেষ্ট যুক্তি-প্রমাণ তুলে ধরতে পারেনি। আর যেহেতু তারা এই আইনের সরাসরি সুবিধাভোগী বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ নয়, তাই এ বিষয়ে তাদের মামলা করার আইনি অধিকার নেই।’

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি অভিবাসন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে স্থায়ীভাবে দেশটিতে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম তারাই এতে অংশ নিতে পারে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তিরা ‘গ্রিন কার্ড’ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী নাগরিকত্ব পান।

২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এই লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে উচ্চ অভিবাসন সংখ্যার কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিরা এই ডিভি লটারির বাইরে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ ১৯৯০ সালের ২৯ নভেম্বর ‘ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অব ১৯৯০’-এ স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই স্থায়ী কর্মসূচিটি চালু করেন। ঐতিহাসিকভাবে যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসী গেছে, সেসব দেশ থেকে অভিবাসন উৎসাহিত করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।