নেপালের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,১৪৩, নিখোঁজ ৫,৪০০

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৪৩ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নেপাল ও ভারত থেকে ১ হাজার ১২৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনের তিব্বত অংশ থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও ১৬টি মরদেহ। একই সঙ্গে নেপাল ও চীনে এখনো ৫ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত বন্যার উৎপত্তিস্থল রাসুয়া জেলা থেকে ৪৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নুওয়াকোটে ১৫৫, ধাদিংয়ে ৫৯, চিতওয়ানে ৩৪৮, গোরখায় ৬৬, তানাহুনে ৩৮, নওয়ালপরাসি ইস্টে ২১৭ এবং নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৯০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া গেছে আরও ৯টি মরদেহ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ১১৩টি মরদেহের ময়নাতদন্ত ও আইনগত পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের সহায়তার জন্য ৯১১টি অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রায় ৭ হাজার ৯১২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুর্গত এলাকা থেকে ৬ হাজার ৫৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা সড়ক পরিষ্কার, তল্লাশি, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে আছে শত শত মানুষ
হিমবাহ ও পাথরের ধসে সৃষ্ট বন্যায় ভোতেকোশি নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি জেলার জনবসতি, সড়ক, সীমান্ত বাণিজ্য অবকাঠামো ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনো অন্তত ৬৩৯ জন আটকে রয়েছেন। ফলে এসব প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে এ পর্যন্ত ২৭৯ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে নেপাল, ভারত ও চীনের দলগুলো যৌথভাবে কাজ করছে।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতর জমে থাকা পানি সরানোর পাশাপাশি রক ব্রেকার ব্যবহার করে প্রবেশপথ তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে কয়েকটি টানেলে এখনো সরাসরি প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার অভিযানে ৯ হাজার ২০০-এর বেশি সদস্য অংশ নিচ্ছেন। তারা আহতদের উদ্ধার, নিখোঁজদের সন্ধান, মরদেহ উদ্ধার ও ব্যবস্থাপনা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনরায় চালু এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
