পশ্চিমবঙ্গে আইএসআইয়ের গুপ্তচর সন্দেহে কাঠমিস্ত্রি গ্রেপ্তার

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিতে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাবড়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অবকাঠামোগত তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ফয়সালাবাদের বাসিন্দা রানা রউফ ওরফে ওয়াহাবকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় ২০১২ সালে নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর তিনি ভুয়া পরিচয়ে কলকাতায় বসবাস করছিলেন।
এসটিএফের তথ্যমতে, কলকাতার তপসিয়া এলাকায় ভারতীয় পরিচয় ব্যবহার করে একটি ঠিকানায় থাকতেন রানা। সেখানে তিনি কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। ওই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তানে পাচার করতেন তিনি।
সংস্থাটির দাবি, সম্প্রতি ভারত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন রানা। এর আগেই হাবড়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। রানার মোবাইল ফোনে পাকিস্তানের একাধিক নম্বরে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তার ফোন থেকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও রেলের বিভিন্ন স্থাপনার ছবিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর রানার কাছ থেকে ভারতীয় আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড উদ্ধার করা হয়। যাচাই করে এসব নথি ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। এ ঘটনায় রানা রউফকে ভুয়া ভারতীয় নথি তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে কলকাতার তপসিয়া এলাকা থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এসটিএফের দাবি, কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় কয়েকজন যুবককে কাজে লাগিয়ে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন রানা। তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্য পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। সেই নজরদারির অংশ হিসেবেই এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা মনে করছেন, ভারতে প্রবেশের পর থেকেই রানা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও রেলওয়ে-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো দেশের বাইরে পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রানা রউফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পেছনে আরও বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না, নাকি তিনি একাই এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন, তা তদন্ত করে দেখছে এসটিএফ।
এর কয়েক দিন আগেই কলকাতা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি ও তার বান্ধবীকে গ্রেপ্তার করেছিল এসটিএফ। তাদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং তার গতিবিধির ওপর নজরদারির অভিযোগ ওঠে।

