যুক্তরাজ্যের আদালতে গুগলের বিরুদ্ধে মামলা

অ্যাপ স্টোর থেকে অতিরিক্ত কমিশন আদায়ের অভিযোগে গুগলের বিরুদ্ধে করা একটি শ্রেণি-আদালত মামলা মঙ্গলবার লন্ডনে শুরু হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গুগল তার প্রভাবশালী অবস্থানের অপব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে, যার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের প্রায় ২ কোটি ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর।
লন্ডনের কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনালে শুরু হওয়া এই শুনানি সাত সপ্তাহ চলার কথা। মামলার বাদীপক্ষ গুগলের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি (প্রায় ১৩০ কোটি ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
২০১৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে গুগল প্লে স্টোরের মাধ্যমে করা কেনাকাটা এই মামলার আওতায় রয়েছে।
এই শ্রেণি-আদালত মামলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাধীন পরামর্শক লিজ কল এবং আইনজীবী প্রতিষ্ঠান হসফেল্ড। কলের অভিযোগ, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্লে স্টোরের মাধ্যমে কেনাকাটার প্রায় সবকিছুর ওপর গুগল সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিয়েছে।
তিনি বলেন, এই কমিশন “অন্যায্য ও অতিরিক্ত” ছিল এবং শেষ পর্যন্ত এর খরচ বহন করতে হয়েছে ভোক্তাদের।
তবে মামলার শুনানি শুরুর আগে গুগল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র দাবি করেন, প্লে স্টোরে “বাজারের অন্যতম কম ফি” নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের অন্য যেকোনো মোবাইল প্ল্যাটফর্মের তুলনায় বেশি পছন্দের সুযোগ দেয়—তারা কোন অ্যাপ ও অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করবেন, সে সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারেন।
গুগলের ভাষ্য, মামলাটি এই বিকল্প ব্যবস্থা এবং তাদের কার্যক্রম পরিচালিত প্রতিযোগিতামূলক বাজারকে উপেক্ষা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা নিজেদের সেবা রক্ষায় জোরালোভাবে আইনি লড়াই চালাবে।
এর আগে ২০২৫ সালের শেষ দিকে অ্যাপলের বিরুদ্ধে একই ধরনের একটি মামলায় রায় হয়। তবে সেখানে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এখনো আদালত নির্ধারণ করেনি। বাদীপক্ষের ধারণা, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের হাজারো অ্যাপ ডেভেলপারের পক্ষে করা পৃথক একটি শ্রেণি-আদালত মামলায় গুগল ২৬ কোটি পাউন্ডের সমঝোতায় পৌঁছেছে। গত মাসে কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনাল ওই সমঝোতা অনুমোদন করে। এর আওতায় যোগ্য ডেভেলপারদের ১৬ কোটি পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। বাকি অর্থ মামলা পরিচালনা ও অর্থায়ন-সংক্রান্ত খরচে ব্যয় হবে।
যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের শ্রেণি-আদালত মামলায় সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হন। ফলে তারা ভবিষ্যতে কোনো ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হলে তার সুবিধা পেতে পারেন, যদি না তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন।
