পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ বাড়াতে যাচ্ছে ফ্রান্স

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে সপ্তাহান্তে সহিংস বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির ফলে রাতের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহায়তা হয়েছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরও কিছু বিধিনিষেধের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, স্থানীয় মেয়রদের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এরই মধ্যে সোমবার রাতে প্যারিস ও লিয়নসহ কয়েকটি এলাকায় আংশিক কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে।
পুলিশ ও জেনদারমেরি সূত্র জানিয়েছে, রাতের পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত ছিল। তবে মার্তিনিক দ্বীপে বিক্ষোভ চলাকালে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তের সহিংসতার পর ২ হাজার ৫১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েক ডজন বিচারিক তদন্তও শুরু হয়েছে।
টেলিভিশন চ্যানেল সি-নিউজ ও ইউরোপ-১-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দারমানিন দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজনীয়তা নাকচ করেন। তিনি বলেন, পুরো জনগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সীমিত না করেও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভে বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি গুরুত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কয়েক লাখ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কারণে যেন বাজেট নিয়ে বিতর্ক এবং বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের মূল কারণগুলো আড়ালে চলে না যায়।
ফ্রান্সের ব্যবসায়ী সংগঠন মেডেফের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক মার্তাঁ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য রাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অন্তত তিন হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেসক্যুর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কারুশিল্পীদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। দ্রুত তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে এ সহায়তা দেওয়া হবে।
এ পরিস্থিতিতে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের একটি সমন্বয়কারী গোষ্ঠী আগামী শনিবার, ২৪ অক্টোবর, আবারও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।
