logo

চীনা স্যাটেলাইটের তথ্যেই ইরানের হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহত: প্রতিবেদন

এনডিটিভি
এনডিটিভি
চীনা স্যাটেলাইটের তথ্যেই ইরানের হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহত: প্রতিবেদন
জর্ডানের বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত মার্কিন সেনাদের একজনের কফিন। ছবি: রয়টার্স

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় চীনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা উচ্চমানের স্যাটেলাইট চিত্রের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরানের কাছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষ্যবস্তু শনাক্তের তথ্য সরবরাহ করছে—এমন অভিযোগে ওয়াশিংটন কয়েক মাস ধরে বেইজিংকে সতর্ক করে আসছিল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, গত জুলাইয়ে জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় এই গোয়েন্দা তথ্য সামনে এসেছে।

গত ১৭ জুলাই উত্তর-পূর্ব জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ঘুমানোর জায়গায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় তিন সেনা নিহত ও আরও চারজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই ঘাঁটিতে থাকা মানুষবাহী ও চালকবিহীন উভয় ধরনের বিমানও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

হামলার সঙ্গে চীনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অবশ্য প্রকাশ্যে তোলেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৭ জুলাইয়ের হামলায় ব্যবহৃত স্যাটেলাইট চিত্রের বিষয়ে চীনা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এবং এর প্রমাণও দাবি করা হয়েছিল।

চীন অবশ্য ওয়াশিংটনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়।

চীনা দূতাবাসও জানিয়েছে, ইরানকে বেইজিং যে সহায়তা দেয়, তা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই দেওয়া হয়। সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে অন্য দেশকে ‘বিদ্বেষপূর্ণভাবে জড়ানো ও হেয় করার’ চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।

এর আগে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র চীনের তিনটি প্রতিষ্ঠান—মিজার্ট ভিশন, আর্থ আই ও চ্যাং গুয়াংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানকে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করছে, যা ‘মার্কিন ও অংশীদার দেশের সেনাদের জন্য হুমকি’ তৈরি করছে।

১৭ জুলাইয়ের হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই ঘাঁটিতে তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটিই ছিল মার্কিন সেনাদের নিহত হওয়ার প্রথম ঘটনা। হামলাটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর দুর্বলতা সামনে আনার পাশাপাশি ইরানের মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা আরও উন্নত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ রয়েছে। ফলে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা চীনের সহায়তার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে উত্তেজনা এড়িয়ে চলছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইরানকে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তের গোয়েন্দা তথ্য চীন দিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে। তিনি এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, চীন এমন কিছু করেনি, যা কোনোভাবেই সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সঙ্গে কথা বলা বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, চীনের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্র ইরানের বৃহত্তর গোয়েন্দা তৎপরতার একটি অংশ হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী নিজস্ব স্যাটেলাইট, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং রাশিয়ার সরবরাহ করা তথ্যের সঙ্গেও এসব তথ্য মিলিয়ে ব্যবহার করে।

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্য ও সামরিক সম্পদ শনাক্ত ও অনুসরণ করতে চীন বা রাশিয়া ইরানকে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তের গোয়েন্দা তথ্য কিংবা উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে ওয়াশিংটনের।