ফ্রান্সে পুলিশ-বিক্ষোভকারী তুমুল সংঘর্ষ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ

ফ্রান্সের আটলান্টিক উপকূলবর্তী শহর বোর্দোর ঐতিহাসিক কেন্দ্রের বিখ্যাত ‘প্লাস দে লা বুর্স’ চত্বরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস (কাঁদানে গ্যাস) ছুড়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও বাধে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বিখ্যাত চত্বরজুড়ে কাঁদানে গ্যাসের ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার সময় মুখোশধারী কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে ইটপাটকেলসহ বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্থানীয় আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক জরুরি পোস্টে জানায়, ‘বিদ্বেষী কিছু চরমপন্থি গোষ্ঠী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ওপর সরাসরি হামলা চালাচ্ছে, ককটেল ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারছে এবং প্লাস দে লা বুর্স চত্বরে জোরপূর্বক ব্যারিকেড তৈরি করছে।’
বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাধারণ মানুষকে উক্ত এলাকাটি কঠোরভাবে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিএনএনের সহযোগী গণমাধ্যম বিএফএমটিভির সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে, জিরন্দ নদীর তীরে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে কয়েক শত উত্তেজিত বিক্ষোভকারীর তীব্র সংঘাত ও মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।
এদিকে দেশে চলমান এই গণবিক্ষোভে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে ‘সামাজিক আন্দোলনের এক চূড়ান্ত বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ফ্রাঁস অ্যাঁসুমিজ দলের নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁ। চলমান পদযাত্রায় নিজে অংশ নিয়ে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘নতুন অনুমোদিত স্থানে সমবেত হয়ে পদযাত্রাটি এখন শান্তিপূর্ণভাবে চার কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।’
সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মেলঁশোঁ আরও বলেন, ‘পুলিশ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নুর বিশৃঙ্খলা উস্কে দেওয়ার সবধরনের অপচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এখন জনগণের দাবির কাছে নতি স্বীকার করার সময় এসেছে; অন্যথায়, খুব শিগগিরই তাদের জন্য পদত্যাগ বা প্রস্থানের দরজা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।’


