পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত নেপাল, ভারতেও বন্যার শঙ্কা

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার প্রভাব ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশ রাজ্যেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গণ্ডক নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে বিহার সরকার। সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে বাল্মীকিনগরের গণ্ডক ব্যারাজের সব কটি, অর্থাৎ ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) পরিস্থিতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। বৈঠকের পর গণ্ডক নদীতীরবর্তী ছয় জেলার প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলো হলো পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সারণ, মুজাফফরপুর ও বৈশালী। নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখতে বলা হয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, নেপালে গণ্ডক নদীর উজানের অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার পর বিহারে পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করা হয়েছে।
বিহার সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। গণ্ডক নদীর তীর ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া নদীর কাছে না যাওয়া এবং কেবল প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
পানির সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে পশ্চিম চম্পারণের বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেটই সতর্কতামূলকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলীদের একটি দল ব্যারাজ ও নদীর প্রবাহ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ও রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিহারের পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গণ্ডক ও নারায়ণী নদীর পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
নেপালের ভোতে কোশি নদীতে সৃষ্টি হওয়া প্রবল ঢল ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গণ্ডকে পৌঁছায়। এ কারণে নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলের আকস্মিক বন্যা ভাটিতে থাকা ভারতীয় এলাকাগুলোর জন্যও ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এদিকে নেপালের বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন চার শতাধিক মানুষ, যাদের বড় একটি অংশ বিদেশি পর্যটক। বন্যায় বহু গ্রাম, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

