logo

কলকাতায় মারা যাওয়া ৬ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে দেশে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কলকাতা
কলকাতায় মারা যাওয়া ৬ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে দেশে
কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের হোটেলপাড়া। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার স্বজনদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার (২১ আগস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ।

বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের তথ্যমতে, মারা যাওয়া পাঁচজনের মরদেহ যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এবং একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নেওয়া হবে। তবে অপর বাংলাদেশি নারী রেবতী সরকারের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কলকাতায় করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে কুষ্টিয়ার অধিবাসী ও সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছরের শিশুসন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের বাসিন্দা আহমেদ বাবুর মরদেহ বাংলাদেশে নেওয়া হবে।

এ ছাড়া সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ফেরত পাঠানো হবে ভোমরা সীমান্ত দিয়ে। অন্যদিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা মৃত রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার ভারতে তার মায়ের সৎকার সম্পন্ন করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার বলেন, ‘প্রয়োজনীয় নথি ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিউমার্কেট থানার পুলিশ মায়ের মরদেহ আমাদের হাতে হস্তান্তর করবে। এরপর আমাদের ইচ্ছা এখানেই সৎকার করব।’

কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া রেবতী সরকারের ছেলের অনুরোধ করেছেন যে, তারা তার মায়ের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকার করতে আগ্রহী। আমরা তাদের জানিয়েছি, এটার জন্য স্থানীয় (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি আমরা ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাবো। এই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

জানা গেছে, নিউমার্কেট থানা থেকে প্রয়োজনীয় জেনারেল ডায়েরির (জিডি) কপি পেতে বিলম্ব হওয়ায় প্রক্রিয়া কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে স্বজনেরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে উপ-দূতাবাস জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলের মধ্যে আইনি কাগজপত্র সম্পন্ন করে শনিবারের মধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হবে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের এই ভয়াবহ ঘটনার পর রাজ্য সরকারের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্ত জোরদার করেছে। ঘটনার পর ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ফায়ার লাইসেন্স ও অনুমোদন না থাকায় কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ১৭টি আবাসিক হোটেলকে নতুন করে শোকজ নোটিশ দিয়েছে রাজ্যের দমকল বিভাগ।

এর আগে, আরও ৯টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁকে একই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে অসাধু ও অবৈধ অবকাঠামোর অভিযোগে মোট ৩০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইনি পদক্ষেপ শুরু করল প্রশাসন।

কলকাতায় মারা যাওয়া ৬ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে দেশে