হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নিয়ে ইরান-ওমান সমঝোতা

আলোচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন নৌপথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর দাবি করেছে ইরান। তবে প্রস্তাবিত রুটটির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করেনি দেশটি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সমঝোতাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং রুটটির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
তবে শুধু এ সমঝোতা হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। বাঘাইয়ের দাবি, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং দেশটির বিরুদ্ধে হুমকিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রণালির নিরাপত্তাঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে জানান, নতুন রুটটি সাময়িকভাবে চালু করা হতে পারে। এটি দুই থেকে চার মাস কার্যকর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রুটটি কখন থেকে চালু হবে কিংবা কোন ধরনের জাহাজ এটি ব্যবহার করতে পারবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান এখন পর্যন্ত ইরানের দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে যায়। ফলে প্রণালিতে অচলাবস্থা শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দিয়েছে।
ইরান এর আগে জানিয়েছিল, তাদের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না। এ নির্দেশ অমান্য করা কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের ইরানি প্রস্তাব নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ওমানের সঙ্গে আলোচনায় এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তা স্পষ্ট করেনি ইরান।
এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়া না হলে ইরানকে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। একই সময়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে শুরু করার আলোচনা এগিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না বলে দাবি করে আসছে ইরান।
সূত্র: বিবিসি