logo

এআই আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে পারে, গবেষকদের শঙ্কা

গালফ নিউজ
এআই আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে পারে, গবেষকদের শঙ্কা
প্রতীকী ছবি: কুয়েত টাইমস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে প্রতিযোগিতার শীর্ষের অবস্থান করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক। তবে এই দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এক তরুণ গবেষক। তার অভিযোগ, মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাওয়া ‘স্ব-উন্নয়নশীল অতি-বুদ্ধিমত্তার মডেল’ তৈরির দৌড়ে নামা এই দুই প্রতিষ্ঠান ‘মানবজাতির জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে’।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এআই গবেষকের নাম জ্যাকব কক্সন (২৭) বলেন, ‘কোনো সংস্থাই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তারা সরাসরি আত্ম-উন্নয়নশীল অতি-বুদ্ধিমত্তার দিকে ছুটছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। যারা এআই তৈরি করছেন, তারা নিজেরাও আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেন যে, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এআই আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে পারে। এই বিশ্বাস নিছক কোনো কল্প-কাহিনি বিপণন কৌশল নয়।’

কক্সনের এই আশঙ্কার প্রতি একমত পোষণ করেছেন অ্যানথ্রোপিকের সেফটি এক্সিকিউটিভ ইভান হুবিঙ্গার। তিনি এক্সে কক্সনকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সত্যিই আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে, এআই সমস্ত মানুষকে মেরে ফেলতে পারে!’ আগামী দশকে এআই দ্বারা মানুষর বিলুপ্তির ঝুঁকি ১০ শতাংশের বেশি বলে দৃঢ় বিশ্বাস তার।মানুষের সক্ষমতাকে অতিক্রম করে যাওয়া কোনো এআই সিস্টেম যেন তার নির্মাতাদের আয়ত্তে থাকে, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি সমাধান আসেনি বলেও স্বীকার করেন ইভান।

পরীক্ষার সময় এআই টুল দ্বারা অননুমোদিত হ্যাকিং সংক্রান্ত নানা জটিলতার পর অ্যানথ্রোপিকের নতুন মডেল প্রকাশের প্রস্তুতির সময়েই কক্সনের এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। গত তিন বছর ধরে এআই মডেলের প্রি-ট্রেনিং নিয়ে কাজ করেছেন কক্সন। প্রথমে ওপেনএআই-তে ও পরে চলতি বছর এর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিকে যোগদান করেন।

তবে বার্তা সংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ওপেনএআই বা অ্যানথ্রোপিক কোনো প্রতিষ্ঠানই তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সরকারি হস্তক্ষেপের আহ্বান

এদিকে এআই গবেষকরা মনে করছেন, প্রযুক্তি খাতটি এখন ‘পুনরাবৃত্তিমূলক আত্ম-উন্নয়ন’ বা ‘ইটারেটিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ পর্যায়ের দ্বারপ্রান্তে, যেখানে মানুষের সামান্য সম্পৃক্ততায় এআই নিজেই পরবর্তী প্রজন্মের মডেল ডিজাইন করতে পারবে। গবেষক কক্সন জোর দিয়ে বলেছেন, সরকারি আইনি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই বিপজ্জনক দৌড় বন্ধ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, অ্যানথ্রোপিকে ঝুঁকির মাত্রাটা ভালোভাবেই বোঝা যায়। তারা গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিরাপত্তার স্বার্থে উন্নয়ন কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পূর্ব প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নেয়। কারণ তাদের আশঙ্কা ছিল কাজ থামিয়ে দিলে তুলনামূলক কম সতর্ক প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলো বাজারে আধিপত্য বিস্তার করবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধরনের চরম ঝুঁকির মুখে গত জুলাই মাসের শেষে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদিসহ সহস্রাধিক প্রযুক্তিবিদ এআই উন্নয়নে নীতিগত মন্দা আনার জন্য ওয়াশিংটনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অন্যদিকে ওপেনএআই গত আগস্টে তাদের সর্বশেষ মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রেখে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর আইনি পর্যালোচনার মধ্যে তা শুরু করে।

গত রোববার ওপেনএআই-এর প্রধান বিজ্ঞানী ইয়াকুব পাচোকি একটি ব্লগ পোস্টে এআই উন্নয়নে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যত এআই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সমন্বয়কে বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঘাটতি থাকায় সম্প্রতি সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি গ্রেগ কাসারও এআই উন্নয়ন স্থগিত রাখার লক্ষ্যে নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছেন।