ফ্রান্সে ধীরগতির অর্থনীতিতে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

ফ্রান্সের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের চাপ এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফরাসি সরকারের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি মাত্র ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এর আগে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ০.৭ শতাংশ। অন্যদিকে দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইনসি (INSEE) চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি ০.৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
মূল্যস্ফীতির চাপও পুরোপুরি কাটেনি। আগস্টে ফ্রান্সে ভোক্তা মূল্য এক বছরের তুলনায় প্রায় ২.৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে প্রায় ০.৬ শতাংশ।
অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব পড়ছে মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়েও। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অনেক ফরাসি নাগরিক অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে দিয়েছেন এবং কেনাকাটার ক্ষেত্রে দামের ওপর আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। রেস্টুরেন্ট ব্যবসাতেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অনেক গ্রাহক স্টার্টার বা পানীয় বাদ দিয়ে শুধু মূল খাবার অর্ডার করছেন, কেউ কেউ খাবার ভাগ করে নিচ্ছেন।
জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতিও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও ব্যবসার খরচ বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামেও তার প্রভাব পড়ে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি বাজেট ঘাটতি ও ঋণের চাপও ফরাসি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার একদিকে ঘাটতি কমাতে চাইছে, অন্যদিকে মানুষের ওপর অতিরিক্ত কর বা ব্যয়ের চাপ না দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হচ্ছে।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জনজীবনেও প্রভাব পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় খাবার, বাসাভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ সামলাতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসা ও সেবা খাতে মানুষের ব্যয় কমে গেলে ছোট ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি বাজার, ভোক্তাদের আস্থা, সরকারি বাজেট এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিই আগামী দিনে ফ্রান্সের অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
