ইয়েমেনে সৌদির বিমান হামলা, বহু হতাহতের দাবি হুতির

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ শহরের উপকণ্ঠে সৌদি আরবের বিমান হামলায় কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দেশটিতে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এ হামলার খবর সামনে এলো।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি বাহিনী তাইজের একটি বাজার লক্ষ্য করে দুটি বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এতে নিহত ও আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি জানাননি। এক অনলাইন বিবৃতিতে তিনি হামলার নিন্দা জানিয়ে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেন।
এর আগে হুতি-নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরাহ জানায়, বাজারটিতে হামলায় সাতজন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। পরে হুতিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে চ্যানেলটি জানায়, আহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে।
পরবর্তীতে হুতিদের কয়েকটি সূত্র এএফপিকে জানায়, ধারাবাহিক বিমান হামলায় প্রায় ৩০ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার দাবিও করা হয়। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
আল-মাসিরাহর প্রচারিত ভিডিও ও ছবিতে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি যানবাহন ও গুদাম দেখা গেছে। গুদামগুলোর পণ্য ধুলা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে ছিল।
তাইজ বর্তমানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের অবরোধের মধ্যে রয়েছে। গৃহযুদ্ধের কারণে শহরটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।
কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে জুলাইয়ে ইয়েমেনে আবারও সহিংসতা বাড়তে শুরু করে। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। ওই সময় হুতিরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে বাব আল-মান্দাব প্রণালিসহ ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে সংঘাত নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করেছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় সৌদি জ্বালানি রপ্তানি আরও চাপে পড়ে।
শনিবার সৌদি আরব জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের দিকে অগ্রসর হওয়া হুতিদের দুটি ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে। এর পরদিন রিয়াদের স্কুলগুলো এক সপ্তাহের জন্য অনলাইন ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে পাঠদান চালুর ঘোষণা দেয়। তবে সিদ্ধান্তটির কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে এএফপি জানিয়েছে।
ইয়েমেনের বর্তমান গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। ওই বছর হুতিরা সৌদি-সমর্থিত সরকারের কাছ থেকে রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং পরে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক জোট ইয়েমেনের যুদ্ধে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে।
দীর্ঘ সংঘাতের পরও ইয়েমেনে রাজনৈতিক সমাধান স্থায়ী হয়নি। দেশটি এখনও বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে।
