logo

পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢোকার অনুমতি পায়নি রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমান

এএনআই
এএনআই
পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢোকার অনুমতি পায়নি রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমান
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: উইকিপিডিয়া

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পাঠানো ইউরেনিয়াম জ্বালানি নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। জ্বালানিবাহী কার্গো বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর দেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আসেনি।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে ফোনে তিনি জানান, রূপপুরের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গো বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তান কেন ওই বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বাংলাদেশ জানতে পারেনি বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম পরিবহনের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণের কাজ চলছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, ইউরেনিয়ামবাহী বিমান আসার কথা থাকায় বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিমানটির অপেক্ষায় ছিলেন।

পরে রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা বাংলাদেশকে জানান, বিমানটির নির্ধারিত আকাশপথ ব্যবহারে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানটি পাঠানো সম্ভব হয়নি। এ কারণে নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে বলে জানান তিনি।

তবে ঠিক কোন দেশ বা কর্তৃপক্ষ বিমানটির আকাশপথ ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি। এ বিষয়ে রোসাটমের এক প্রতিনিধির কাছে জানতে চেয়ে এএনআই ই-মেইল করলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

রূপপুরে তৃতীয় প্রজন্মের VVER-1200 প্রযুক্তির দুটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুই ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

প্রথম ইউনিটের জন্য কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে পৌঁছায়। রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ওই চালানে ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ছিল।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করে একটি ভারী কার্গো বিমানে করে জ্বালানিগুলো সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী কনটেইনারে করে এসব জ্বালানি পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।

এ জন্য ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করা হয়েছিল। জ্বালানি পরিবহনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পরে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ওই জ্বালানি হস্তান্তর করা হয়।