logo

ব্রাজিলে চলছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ, লুলা-বলসোনারোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ব্রাজিলে চলছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ, লুলা-বলসোনারোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা (বাঁয়ে) এবং সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো (ডানে)—যারা ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন। ছবি: এএফপি

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়। এবারের নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং রক্ষণশীল সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।

৮০ বছর বয়সি লুলা ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা। অন্যদিকে, ৪৫ বছর বয়সি ফ্লাভিও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ ছেলে ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি।

গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ওই নির্বাচনে বৈধ ভোটের ৪৭ শতাংশ পেয়ে এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো। লুলা পেয়েছিলেন ৪৫ শতাংশ ভোট। তবে কেউই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। ফলে দ্বিতীয় দফার ভোটের আয়োজন করা হয়।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত ডেটাফোলহার জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে সমান সমর্থন দেখা যায়। জরিপ অনুযায়ী, বৈধ ভোটের হিসাবে উভয় প্রার্থীর সমর্থন ছিল ৫০ শতাংশ।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্নীতি নির্বাচনের প্রধান ইস্যু

এবারের নির্বাচনে ব্রাজিলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জননিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিনের দুর্নীতিসংক্রান্ত উদ্বেগ।

লুলা ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে জইর বলসোনারোকে পরাজিত করে তিনি আবার ক্ষমতায় ফেরেন। ওই নির্বাচনে দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল দুই শতাংশেরও কম, যা আধুনিক ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হয়। এবার জয়ী হলে চতুর্থবারের মতো, তবে টানা নয়, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন লুলা।

অন্যদিকে ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাসংক্রান্ত তদন্তের জেরে জইর বলসোনারোকে সরকারি পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করা হয় এবং তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর তার ছেলে ফ্লাভিও প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন।

সাবেক প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সমর্থন এখনও শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটে তার স্ত্রী মিশেল বলসোনারোও ফেডারেল সিনেটের একটি আসনে জয়ী হন।

লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে

ফ্লাভিও বলসোনারো নির্বাচনে জয়ী হলে ব্রাজিলে ডানপন্থিদের আবার ক্ষমতায় ফেরার পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর আঞ্চলিক রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে ব্রাজিলের অবস্থানের আরও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে।

ব্রাজিলের ২৬টি অঙ্গরাজ্য এবং ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টজুড়ে ১৫ কোটির বেশি নিবন্ধিত ভোটার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা। এর পরপরই প্রাথমিক ফল প্রকাশ শুরু হতে পারে।