logo

শূকরের কিডনি নিয়ে ৯ মাস বেঁচে থাকার রেকর্ড

দ্য গার্ডিয়ান
দ্য গার্ডিয়ান
শূকরের কিডনি নিয়ে ৯ মাস বেঁচে থাকার রেকর্ড
শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের চার দিন পর ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে নার্স মেলানি ব্রডনারের সঙ্গে অ্যান্ড্রুস। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

জিনগতভাবে পরিবর্তন করা শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করে টানা ৯ মাস বা ২৭১ দিন সুস্থ থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন ৬৬ বছর বয়সি মার্কিন নাগরিক টিম অ্যান্ড্রুস। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এটি ‘জেনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন’ হিসেবে পরিচিত। এই গবেষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো শূকরের অঙ্গ মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদে কেবল সফলতা পেলেন গবেষকেরা।

Advertisement

টাইপ-২ ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগে ভুগছিলেন মার্কিন মুলুকের নিউ হ্যাম্পশায়ারের বাসিন্দা টিম অ্যান্ড্রুস। চিকিৎসা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী ৫ বছরের মধ্যে তার কোনো মানব কিডনি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। অন্যদিকে ডায়ালাইসিস চলাকালীন মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল ৪০ শতাংশের বেশি।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘ম্যাস জেনারেল ব্রিগহাম’ হাসপাতালের শল্যচিকিৎসকরা ‘উইলমা’ নামের একটি ইউকাটান প্রজাতির ক্ষুদ্রাকৃতির শূকরের অঙ্গ বেছে নেন। ওই শূকরের কিডনিতে ৬৯টি জিনগত মডিফাই করে অ্যান্ড্রুজের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। ফলে তা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইমিউন সিস্টেম) সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং সংক্রামক ভাইরাসের ঝুঁকি দূর হয়।

প্রতিস্থাপনের পর টানা ৯ মাস কোনো প্রকার ডায়ালাইসিস ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন অ্যান্ড্রুস। আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এই সফলতা ও অর্জনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ‘অলৌকিক ঘটনা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

চিকিৎসকেরা জানান, ২৭১ দিন পর সংস্থাপিত শূকরের কিডনিটির কর্মক্ষমতা কমতে শুরু করলে তা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। তবে সবচেয়ে আশার কথা হলো, পরবর্তীতে এক মৃত মানব দাতার কাছ থেকে পাওয়া কিডনি সফলভাবে অ্যান্ড্রুজের দেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের সেন্টার ফর ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন সায়েন্সের অন্যতম গবেষক ড. লিওনার্দো রিয়েলা বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে অঙ্গের তীব্র সংকটই বর্তমানে চিকিৎসার মূল বাধা। চিকিৎসাসেবার এই সংকটকালে শূকরের অঙ্গ ডায়ালাইসিসের বিকল্প হিসেবে রোগীদের জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, শূকরের কিডনি ব্যবহারের ফলে অ্যান্ড্রুজের শরীরে মানবদেহের টিস্যুর বিরুদ্ধে নতুন কোনো ক্ষতিকর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি। ফলে পরবর্তীতে নতুন মানব অঙ্গ গ্রহণেও তার শরীরে কোনো আইনি বা শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করেনি।

দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাক্ষেত্রে মানব অঙ্গ সরবরাহের চরম ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালে প্রথম শূকরের কিডনি গ্রহণকারী রোগী প্রতিস্থাপনের পর মাত্র ৫২ দিন বেঁচে ছিলেন। তবে অ্যান্ড্রুজের ওপর পরিচালিত এই ঐতিহাসিক ট্রায়াল বিশ্বজুড়ে কিডনি বিকল হওয়া কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচাতে আগামী দিনে অস্থায়ী ও স্থায়ী চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নবদিগন্তের সূচনা করল।