ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘প্রচারণার কৌশল’ ফাঁস করলেন সাবেক মুখপাত্র

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযানের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্য বিকৃত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর সাবেক এক মুখপাত্র। নিরীহ ফিলিস্তিনিদেরও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হতো এবং সেনাবাহিনীর অভিযানকে জনসমর্থন ও আন্তর্জাতিক বৈধতা দিতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য সাজানো হতো বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন আয়েলেত ক্রয়জার। একই পোস্টে তিনি ইসরায়েলি সংগঠন ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন। সংগঠনটি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের কথিত নিপীড়ন ও অনিয়ম নিয়ে সাবেক সেনাসদস্যদের সাক্ষ্য প্রকাশ করে।
ক্রয়জার লেখেন, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের জন্য দেওয়া তথ্যের বিভিন্ন দিক তিনি নিজের হাতে পরিবর্তন করেছেন। নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রেও ‘সন্ত্রাসী’ শব্দটি ব্যবহার করতে দেখেছেন তিনি। লক্ষ্য ও শ্রোতাদের ধরন অনুযায়ী সেনাবাহিনীর বিবৃতি তৈরি করা হতো বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য, দায়িত্ব পালনের সময় পশ্চিম তীর ও গাজার বাস্তব পরিস্থিতি দেখার পাশাপাশি সেনাবাহিনী কীভাবে সেসব ঘটনা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরত, সেটিও প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি।
ক্রয়জার বলেন, সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইউনিট জনসাধারণের কাছে ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা রাখত। জনসাধারণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং জনসংযোগ সংস্থা হিসেবে সত্যকে ব্যবহার করা হতো।
তিনি জানান, ইসরায়েলি জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়ানোই ছিল প্রধান লক্ষ্য। সেখানে জনগণের জানার অধিকারকে সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হতো।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে সামরিক অভিযানের গ্রহণযোগ্যতা ও বৈধতা বাড়ানো ছিল মূল উদ্দেশ্য। এ ক্ষেত্রেও সত্যকে বিসর্জন দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা প্রকাশের পর নিয়মিতভাবে দুঃখ প্রকাশের বিবৃতি দেওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন ক্রয়জার। তিনি বলেন, একটি হামলায় কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর খবর জানানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরীহ মানুষের ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশের বাক্য যোগ করতে শিখেছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সময় এটি ছিল নিয়মিত ঘটনা।
তিনি আরও লেখেন, অন্যায়ের মুখে নীরব থাকা কখনোই তাঁর স্বভাব ছিল না। অথচ সেনাবাহিনীতে তাঁকে অন্যায়ের পক্ষে জনসংযোগের কাজ করতে বলা হয়েছিল।
ক্রয়জার জানান, তিনি অতি-গোঁড়া ইহুদি ধর্মীয় সম্প্রদায়ে বেড়ে উঠেছেন। যুদ্ধ শুরুর পর তিন বছর আগে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে নিজের অব্যাহতির সুযোগ ছেড়ে দেন। তখন তাঁর বিশ্বাস ছিল, দেশের প্রতিরক্ষায় ভূমিকা রাখতেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন।
কিন্তু সামরিক দায়িত্ব শেষ করার পর ভ্রমণ কিংবা পড়াশোনা শুরু করার পরিবর্তে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এ যোগ দেবেন, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে জানান তিনি।
ক্রয়জারের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে এক্সে দেওয়া পোস্টে সংগঠনটি বলেছে, অধিকৃত ভূখণ্ডের বাস্তবতা সম্পর্কে জনগণকে সত্য জানানোর সময় এসেছে।
পোস্টের শেষাংশে যুদ্ধের সময় দায়িত্ব পালন করা অন্য সেনাসদস্যদেরও মুখ খুলতে আহ্বান জানান তিনি। ক্রয়জার লেখেন, “তাই আমি আর নীরব থাকব না। যুদ্ধের সময় দায়িত্ব পালন করে থাকলে আপনারাও নীরব থাকবেন না।”
এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে ওই পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা প্রকাশের পর নিয়মিতভাবে দুঃখ প্রকাশের বিবৃতি দেওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন ক্রয়জার। তিনি বলেন, একটি হামলায় কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর খবর জানানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরীহ মানুষের ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশের বাক্য যোগ করতে শিখেছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সময় এটি ছিল নিয়মিত ঘটনা।
তিনি আরও লেখেন, অন্যায়ের মুখে নীরব থাকা কখনোই তাঁর স্বভাব ছিল না। অথচ সেনাবাহিনীতে তাঁকে অন্যায়ের পক্ষে জনসংযোগের কাজ করতে বলা হয়েছিল।
ক্রয়জার জানান, তিনি অতি-গোঁড়া ইহুদি ধর্মীয় সম্প্রদায়ে বেড়ে উঠেছেন। যুদ্ধ শুরুর পর তিন বছর আগে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে নিজের অব্যাহতির সুযোগ ছেড়ে দেন। তখন তাঁর বিশ্বাস ছিল, দেশের প্রতিরক্ষায় ভূমিকা রাখতেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন।
কিন্তু সামরিক দায়িত্ব শেষ করার পর ভ্রমণ কিংবা পড়াশোনা শুরু করার পরিবর্তে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এ যোগ দেবেন, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে জানান তিনি।
ক্রয়জারের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে এক্সে দেওয়া পোস্টে সংগঠনটি বলেছে, অধিকৃত ভূখণ্ডের বাস্তবতা সম্পর্কে জনগণকে সত্য জানানোর সময় এসেছে।
পোস্টের শেষাংশে যুদ্ধের সময় দায়িত্ব পালন করা অন্য সেনাসদস্যদেরও মুখ খুলতে আহ্বান জানান তিনি। ক্রয়জার লেখেন, “তাই আমি আর নীরব থাকব না। যুদ্ধের সময় দায়িত্ব পালন করে থাকলে আপনারাও নীরব থাকবেন না।”
এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে ওই পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।
