গাজায় সামরিক অভিযানে যেতে নারাজ, ১৬ ইসরায়েলি সেনার কারাদণ্ড

ফিলিস্তিনের স্বাধীন ভূখণ্ড গাজায় সামরিক অভিযানে যেতে আপত্তি করায় ১৬ জন সেনা সদস্যকে কারাদণ্ড দিয়েছে ইসরায়েল। তারা সবাই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) গিভাতি ব্রিগেডের রোটেম ব্যাটালিয়নে কর্মরত। মূলত একজন নারী প্যারামেডিকের নেতৃত্ব গাজা অভিযান যেতে দেওয়া সামরিক আদেশ অগ্রাহ্য করেছেন তারা।
রোববার (৩০ আগস্ট) মধ্যরাতের কিছু আগে দেওয়া বিবৃতে ওই ১৬ সেনাকে সামরিক হেফাজতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে আইডিএফ।
বিবৃতি অনুযায়ী, শাস্তি পাওয়া সেনাসদস্যরা মূলত অর্থডক্স শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ‘ইয়েশিভা’ থেকে আসা সেনাকর্মী। গাজায় ‘নামার’ সাঁজোয়া যানে করে একটি জরুরি অভিযানমূলক টহলে একজন নারী প্যারামেডিক তাদের সঙ্গী হবেন—এমন খবর পাওয়ার পর ওই তরুণ সেনারা সম্মিলিতভাবে অভিযানে যেতে অস্বীকার করেন। তাদের এই অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত গাজায় নির্ধারিত সামরিক মিশনটি সম্পূর্ণ বাতিল করতে বাধ্য হয় আইডিএফ।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন এবং অভিযুক্ত পাঁচ প্রধান সেনাকে ১০ দিন ও বাকি ১১ জনকে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড দেন। ১০ দিনের দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনকে পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে ফেরত পাঠানোর পূর্বে সামরিক মূল্যায়ন কমিটির মুখোমুখি হতে হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং ব্রিগেডের রাব্বি (ধর্মীয় নির্দেশক) নিজে উপস্থিত হয়ে মিশনটির গুরুত্ব ও জরুরি অবস্থা ব্যাখ্যা করেছিলেন। এমনকি ধর্মীয় বিধিনিষেধ শিথিল করে রাব্বি তাদের অভিযানে অংশ নেওয়ার অনুমতিও দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ওই সেনারা নিজিদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ব্যাটালিয়নের হারেদি সেনা দলের এক সদস্য সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট-কে বলেন, ‘ওরা একেবারেই তরুণ ও নতুন। প্রশিক্ষণের সময়ের নিয়মকানুনের সঙ্গে ব্যাটালিয়নের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার ব্যাপক তফাৎ থাকে। দুর্ভাগ্যবশত, নিয়ম না জানার খেসারত এখন ওদের দিতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে, কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের রিজার্ভ নারী প্যারামেডিক আলিসা ক্র্যান্ট এই ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করে ওয়াইনেট-কে বলেন, ‘জীবন বাঁচানো ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়াটাই আমার একমাত্র পেশাদার পরিচয়। যখন কোনো সেনা আহত হন, তখন চিকিৎসক পুরুষ নাকি নারী, তা নিয়ে কারোর মাথাব্যথা থাকে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি ইহুদি ধর্মেও জীবন বাঁচানো সর্বাগ্রে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নারীরা কোনো সুবিধা না নিয়ে পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শত্রুর সীমানায় কাজ করছে। এ ধরনের মানসিকতা সেনাবাহিনীর মূল্যবোধের পরিপন্থি।’

