logo

গুজরাট থেকে বাংলাদেশে ইলিশ, পূজায় ‘পদ্মার উপহার’ নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমবঙ্গ

আনন্দবাজার
আনন্দবাজার
গুজরাট থেকে বাংলাদেশে ইলিশ, পূজায় ‘পদ্মার উপহার’ নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমবঙ্গ
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারত থেকে আমদানি করছে বাংলাদেশ। ছবি: আনন্দবাজার

উৎপাদন কম হওয়ায় এবার বাংলাদেশের বাজারে ঢুকছে ভারতের ইলিশ। প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ‘সৌজন্য উপহার’ হিসেবে ভারতে ইলিশ পাঠানোর রীতি থাকলেও চলতি বছরে বাংলাদেশে ইলিশের জোগান কমে যাওয়ায় উল্টো ভারত থেকেই মাছ আমদানি করছে বাংলাদেশ। গত দু’মাসে গুজরাটের ভারুচ বন্দর এবং হাওড়ার পাইকারি মাছ বাজার থেকে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে আমদানি করা হয় বলে ব্যবসায়ী মহল সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে ধরা পড়ে। কিন্তু এ বছরে ইলিশের জোগান কমেছে। সেই ঘাটতি সামাল দিতেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমদানি করা মাছ শুধু স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে না, প্রক্রিয়াকরণের পর বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।

কলকাতার হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদের দাবি, বাংলাদেশে সাধারণত বোয়াল, রুই, পারসে, ট্যাংরার মতো মাছ পাঠানো হলেও ইলিশ রফতানি এ বারই প্রথম। তার বক্তব্য, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেটে ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা বেশি। গুজরাটে এই ধরনের ইলিশ তুলনামূলক বেশি পাওয়া যাওয়ায় সেখান থেকেই মাছ আমদানি করা হচ্ছে। এমনকি ইলিশের ডিম আলাদা করে বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গুজরাট থেকে আসা ইলিশ শুকিয়ে নোনা ইলিশ হিসেবেও বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমদানি করা মাছ প্রক্রিয়াকরণ করে বিদেশের বাজারেও পাঠানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত ইলিশ বাণিজ্যের ইতিহাস অবশ্য বেশ জটিল। ২০১২ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ সব ধরনের মাছ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে অন্যান্য মাছের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও ইলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপুজো উপলক্ষে সীমিত পরিমাণে ইলিশ ভারতে পাঠানো শুরু হয়। কোভিড-পরবর্তী সময়ে সেই পরিমাণ আরও কমে যায়।

গত বছর বাংলাদেশ সরকার ভারতকে ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিলেও শেষ পর্যন্ত ভারতে পৌঁছায় মাত্র ১৪৩.৮০ টন। তার আগের দু’বছর রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬০০ টনেরও কম।

এবার নতুন সরকারের সময়ে ভারতের বাজারে ইলিশ ঢুকবে কি না, সেটা নিয়েই উদ্বিগ্ন পশ্চিম বাংলা। বাংলাদেশ সরকারের তরফে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও অতীতে পূজার সময়ে পাঠানো মাছকে ‘সৌজন্য উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার সেই ‘উপহারের’ পরিমাণ কত হবে, আদৌ হবে কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়।

মকসুদের দাবি, ওপার বাংলার মাছ ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের মৎস্য দপ্তরের কাছে সরাসরি ইলিশ আমদানির জন্য আবেদন করেছেন। তবে পদ্মার ইলিশ কবে ভারতের বাজারে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চিত খবর নেই।