logo

সৌদি-কাতারে আরও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অ্যাক্সিওস
সৌদি-কাতারে আরও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি। ছবি: এবিসি নিউজ

ইরানের ওপর সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দুই মিত্র দেশ সৌদি আরব ও কাতারে বাড়তি দুটি ‘প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলোকে সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক হামলা থেকে সুরক্ষা দিতেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস' এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসেই সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তায় একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি বসানো হয়। পাশাপাশি কাতারের একটি অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন স্থাপনা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে দ্বিতীয় মিসাইল ব্যাটারিটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে রিয়াদ ও দোহা যেন প্রতিশোধমূলক আক্রমণের মুখে না পড়ে, সৌদি ও কাতার প্রশাসনকে সেই সুরক্ষার আশ্বাস দিতেই যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে নিজেদের জ্বালানি অবকাঠামো যেন নিশ্চিহ্ন হয়ে না যায়, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিল মিত্র দেশগুলো।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে আবারও ব্যাপক বোমাবর্ষণ করার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাকে এখন একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় ইরান আমাদের প্রস্তাবিত চুক্তিতে সই করবে, নতুবা তাদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, এর আগে আগস্টের শুরুর দিকেই সৌদি আরব ও কাতারের শীর্ষ নেতারা ট্রাম্পকে ইরানের মূল জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের মতো বড় ধরনের আক্রমণ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাদের মূল আশঙ্কা ছিল, মার্কিন আক্রমণের জবাবে ক্ষুব্ধ ইরান সরাসরি তাদের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে পাল্টা আঘাত হানবে।

মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওই দুই দেশের করা আবেদনের ওপর ভিত্তি করেই প্রথমে সামরিক আক্রমণের বদলে ইরানের ওপর কেবল সর্বাত্মক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নীতি বেছে নিয়েছিল ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বড় মাত্রায় বিমান হামলা চালাতে গেলে ওয়াশিংটনের জন্য সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

তবে নিজেদের তেল স্থাপনার শতভাগ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রিয়াদ এই সুবিধা দিতে রাজি হচ্ছিল না। তাই মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করে মূলত সৌদি সরকারকে রাজি করানোর পথ সুগম করল পেন্টাগন।

তবে সংবেদনশীল এই সামরিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স।

অন্যদিকে কেবল মিসাইল ব্যাটারিই নয়, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি কয়েক গুণ বাড়াতে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ, আধুনিক যুদ্ধবিমান ও হাজার হাজার সেনা পাঠাচ্ছে পেন্টাগন।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণুচালিত বিশাল বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ও এর পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইক গ্রুপ গত রোববার সান ডিয়েগোর নৌঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে স্ট্রাইক গ্রুপটি নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছে যাবে।

অ্যাক্সিওস আরও জানিয়েছে, ১৩তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের হাজার হাজার দ্রুতগতির মেরিন সেনাকে বহনকারী ম্যাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও গত সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে সমুদ্রপথে রওনা দিয়েছে। আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে তাদের ওই অঞ্চলে অবস্থান নেওয়ার কথা রয়েছে।