logo

‘বাঁচাও বাঁচাও’ আর্তনাদ/দিল্লিতে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকা অন্তত ৩০ শিশু

টাইমস অব ইন্ডিয়া
টাইমস অব ইন্ডিয়া
দিল্লিতে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকা অন্তত ৩০ শিশু
দিল্লিতে বহুতল ভবন ধসের পর উদ্ধারে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয়রা। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী, নির্মাণশ্রমিক ও অন্তত ৩০ শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি মরদেহ ও চারজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। বাকিদের উদ্ধারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Advertisement

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটের দিকে বহুতল ভবনটি ধসে পড়লে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই ভারী যন্ত্রপাতি, হাইড্রোলিক ট্যাঙ্কার ও বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-কে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভবন সংস্কার ও নিচে বেসমেন্ট নির্মাণের কাজ চলাকালীন বিকট শব্দে এটি ধসে পড়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভূমিকম্পের মতো গর্জন শুনতে পেয়ে বের হয়ে দেখি চারদিক ধুলা ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। ভবনের দুর্বল স্তম্ভের কারণে নিচতলায় সংস্কারকাজের সময় এই ধস নামে। ভেতরে থাকা অনেকেই চাপা পড়েছেন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ‘আমাদের বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও’ বলে শিশুদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। সেখানে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন শিশু আটকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৪ থেকে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২ থেকে ৩টি মরদেহও। আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনটিতে বেসমেন্ট তৈরির পাশাপাশি সংস্কারকাজ চলছিল। নিচতলায় ভাড়ার জন্য জায়গা তৈরির উদ্দেশ্যে কাজ করা হচ্ছিল। ওপরের কাঠামোটি মজবুত করা হলেও নিচের স্তম্ভগুলো দুর্বল ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সংস্কারকাজের সময় নিচের কাঠামো দুর্বল হয়ে ভবনটি ধসে পড়ে। এতে নিচে কাজ করা শ্রমিক ও শিশুরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

আটকে পড়াদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনাস্থলটি শিক্ষার্থী-অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বেশ কিছু পিজি (পেয়িং গেস্ট) হোস্টেলের শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।