logo

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক ইস্তাম্বুলে

রয়টার্স
রয়টার্স
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক ইস্তাম্বুলে
মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান (বাম থেকে), সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ছবি: আনাদোলু

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রথম কমিটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। সোমবার (৩১ আগস্ট) যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে ও পারস্পরিক কৌশল নির্ধারণে বৈঠকে বসবে এই তিন মুসলিম দেশ।

Advertisement

রোববার (৩০ আগস্ট) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি” স্বাক্ষরিত হয়। চলমান ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার এই তিন প্রধান সুন্নি মুসলিম রাষ্ট্র নতুন কৌশলগত জোটে একত্রিত হয়েছে।

চুক্তিটিতে ন্যাটো সনদের ঐতিহাসিক ‘অনুচ্ছেদ ৫’-এর আদলে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনটি দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালানো হলে তা সদস্য বাকি দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রটি জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফরা (সেনাপ্রধান) উপস্থিত থাকবেন।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথভাবে পণ্য উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

ইসরায়েল ও শিয়া প্রধান ইরানের সামরিক অবস্থান নিয়ে তিনটি দেশই উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পরও আলোচনায় অচলাবস্থা চলছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ দিয়ে চাপ আরও বাড়িয়েছে।

ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান এবং বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তিটি অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে। বিশেষ করে মিশরকে এতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক ইস্তাম্বুলে