
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, জায়নবাদী ইসরায়েলের ভাণ্ডারে পারমাণবিক অস্ত্র মজুত রয়েছে। অথচ পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনের নামে ইরানকে নানামুখী চাপের মধ্য দিয়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এই দ্বিচারিতা পশ্চিমা বিশ্বের চরম ভণ্ডামি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পারমাণবিক ইস্যুর প্রসঙ্গ টেনে পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনা করেন পেজেশকিয়ান।
এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা ও আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) তাদের স্বাক্ষর না করার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে অবৈধভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হয়েও ইসরায়েল অবাধ সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, অন্যদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনের নামে সব ধরনের চাপ ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে ইরানকে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তারা (ইসরায়েলিরা) মানুষ হত্যা করছে, অথচ আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানো হচ্ছে এবং শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।’
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না বলে দাবি করেন তিনি। তবে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয় এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও নয়।’
ইরানি প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, ইরান সবসময় আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকলেও তাদের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল গাজায় ৭০ হাজারেরও বেশি নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পরও পশ্চিমা শক্তিগুলো তাদের ছাড় দিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলকে একটি ‘প্রকৃত সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিযুক্ত করে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইসরায়েল যে কোনো সার্বভৌম দেশের যে কোনো শহরের ওপর হামলা চালিয়ে এবং বেছে বেছে গুপ্তহত্যা পরিচালনা করে একজন সত্যিকারের সন্ত্রাসীর মতো আচরণ করছে। তারা আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে গণহত্যা চালাচ্ছে, আর উল্টো অন্যদের সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করছে।’
