logo

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে গেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা

বিবিসি
বিবিসি
দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে গেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। ছবি: ইউএসএ টুডে নেটওয়ার্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে আছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

বুধবার ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই দফায় পেন্টোবারবিটাল নামের প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু এতেও তার মৃত্যু হয়নি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তিনি বেঁচে আছেন। তবে তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কাছে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই।’

ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা এখন তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ৫০ বছর বয়সী পাইককে ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

১৯৯৫ সালে হত্যাকাণ্ডের সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করার অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চলে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার অনুমতি দেয়।

তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ, যিনি মেয়ের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে টেনেসিতে গিয়েছিলেন, এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘এটা ছিল একেবারেই বিশৃঙ্খল।’

বৃহস্পতিবার পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে জানান।

আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তার শরীরে শিরায় ওষুধ দেওয়ার পথ তৈরির জন্য প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করা হয়।

পাইকের বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করতে দেখেছেন তিনি। এর মধ্যে একটি সুচ বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় ছিল বলে জানান তিনি।

আইনজীবী আরও বলেন, দ্বিতীয় দফায় প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছেন- এটি স্পষ্ট হয়ে যায়। তখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রত্যক্ষদর্শীদের একটি বন্ধ পর্দার পেছনে রাখা হয়। ফলে ওই সময় পর্দার আড়ালে কী ঘটছিল, তা তারা দেখতে পাননি।

স্পাইভি বলেন, পর্দার আড়ালে কী ঘটছিল, কেউ জানত না। কখন এবং কীভাবে চিকিৎসাকর্মীরা তাকে সহায়তা করতে শুরু করেছিলেন, সে বিষয়েও আমার কোনো ধারণা ছিল না।

পাইকের আইনজীবীরা বলছেন, এখন তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়া উচিত। এর আগে একই ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

আরেক আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, তারা অন্যান্য আইনি পথও খতিয়ে দেখছেন। প্রথমে তারা নিশ্চিত করতে চান যে পাইক সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং এরপর তিনি নিজে কী চান, সে বিষয়ে মত দেওয়ার সুযোগ পান।

এদিকে টেনেসির গভর্নর বিল লি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তদন্ত ‘পূর্ণাঙ্গ’ হবে এবং এতে সময় লাগবে।

গভর্নর বলেন, ‘অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষ এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখেন। এই তদন্তের উদ্দেশ্যই হলো সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা।’

তবে এই স্বাধীন তদন্ত কে পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ব্যর্থতার পর টেনেসিতে চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন গভর্নর। এর ফলে আগামী ৩ ডিসেম্বর দণ্ড কার্যকরের কথা থাকা দোষী সাব্যস্ত খুনি গ্যারি সাটনের ক্ষেত্রেও এই স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য হবে।

টেনেসি কারেকশন বিভাগ অবশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। বিভাগটির ভাষ্য, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের অনুমোদিত ও আইনসম্মত নির্ধারিত প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে।

বিভাগটি আরও জানিয়েছে, ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ওষুধের কার্যকারিতা আগেও প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রথম প্রয়াস ব্যর্থ হলে দ্বিতীয়বার ওষুধ দেওয়ার বিষয়টিও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ।

টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরও তদন্তের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। দপ্তরটির ভাষ্য, ‘কী ঘটেছে, তা আমাদের জানতে হবে।’

চলতি বছরে টেনেসিতে এটি দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। সে সময় প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার জন্য তার শরীরে শিরা খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তাকে এক বছরের জন্য মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।