পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনের পরই রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা হুমায়ুনের

পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন চলাকালীন দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পুলিশি 'হেনস্থা' ও আটকের শিকার হয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হুমায়ুন কবীর।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কার্যকালে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না এবং বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কট করবেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কবীর বলেন, "যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।"
মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে 'আইন ভঙ্গের' অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টা নাগাদ তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।
২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর নওদা এবং রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের পরিষেবা দিয়ে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে খুব শীঘ্রই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
এর পাশাপাশি, বিধানসভার সমস্ত সংসদীয় কমিটি (মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি, বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটি) এবং স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠক থেকে একযোগে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
