সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক/তারেক রহমান ভারতে না এলে সুযোগ হারাবে, বন্ধ হতে পারে যোগাযোগের পথ

এএনআই
তারেক রহমান ভারতে না এলে সুযোগ হারাবে, বন্ধ হতে পারে যোগাযোগের পথ
ভারতের সাবেক কূটনীতিক বিদ্যা ভূষণ সোনি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধাননমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলো দূরীকরণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ভারতের সাবেক কূটনীতিক বিদ্যা ভূষণ সোনি। তিনি বলেছেন, তারেক রহমান ভারতে না এলে এই সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথও খোলা নাও থাকতে পারে।

Advertisement

সোমবার (১৭ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম ভারত সফর হতে যাচ্ছে। তার আশা, এই সফল কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। উভয় পক্ষের সদিচ্ছা থাকলে এই আলোচনা তিস্তা চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নতুন আশার আলো দেখাতে পারে।

তিনি বলেন, আমি আশাবাদী। দুদেশের অনেক অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে, যা এই সফরে সুরাহা করা প্রয়োজন। এর মধ্যে তিস্তা নদীর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অধিকাংশ বিষয় একমত হয়েছিলাম, কিন্তু পরবর্তীতে কিছু খুঁটিনাটি বিষয় বাদ পড়ে গিয়েছিল.. আমার মনে হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার বিষয়েও বাংলাদেশ সমানভাবে আগ্রহী। তারা চায় ভারত এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুক।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ছাড়া ভারতের আর কোনো উপায় নেই। কারণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ভারতের কথা শোনে। আর আমার ধারণা, বাংলাদেশ পক্ষ চাইছে যে এই সুযোগ বা সম্ভাবনার দ্বারটি কাজে লাগিয়ে ভারত যেন সমস্যাগুলোর সমাধানে তার প্রভাব ও কূটনৈতিক সদিচ্ছা ব্যবহার করে।

দেশটির সাবেক এই কূটনৈতিকের মতে, তারেক রহমান একজন ‘খোলামেলা মনের’ মানুষ। তিনি ভারতবিরোধী নন এবং অতীতে ভারতবিরোধী কোনো বক্তব্যও দেননি। তাই ভারত সতর্কতার সঙ্গে সেই সম্ভাবনার দ্বারটি খোলার চেষ্টা করছে। দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলো সমাধানের এটি একটি বড় সুযোগ, যা হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।

বিদ্যা ভূষণ সোনি বলেন, এত সব কথাবার্তা সত্ত্বেও, এগুলো মূলত উভয় পক্ষের সরকারি মুখপাত্রদের দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য। কিন্তু মূল রাজনীতিবিদরা এ বিষয়ে এখনও কথা বলেননি। তাই আমার মনে হচ্ছে, এখন পর্যন্ত তার সফরের একটি সম্ভাবনা রয়েছে। আমি এ বিষয়ে খুবই আশাবাদী।

এদিকে গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নয়াদিল্লি ও ঢাকার কর্মকর্তাদের মধ্যে সক্রিয় যোগাযোগ চলছে। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

অন্যদিকে, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। এর ব্যাখ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন যে, ওই অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম আয়োজিত ছিল এবং এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা বা সমর্থন ছিল না।

একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা এবং প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় অন্যান্য আসামিদের হস্তান্তরের অনুরোধ নিয়ে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

তারেক রহমান ভারতে না এলে সুযোগ হারাবে, বন্ধ হতে পারে যোগাযোগের পথ