এবার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে মনোযোগ ভারতের, করবে রপ্তানিও

ইংরেজদের করায়ত্ত থেকে স্বাধীনতা লাভের ৭৯তম বর্ষপূর্তি পালন করছে ভারত। রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক মুঘল দুর্গ লালকেল্লা থেকে পতাকা উত্তোলন করে বিশেষ অনুষ্ঠানের সূচনা করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে এবার উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বছর। এই প্রথমবার অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে লালকেল্লায় গাওয়া হলো ‘বন্দে মাতরম’।
শনিবার (১৫ আগস্ট) লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে মোদি তার দেশকে আর সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ও রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে অনাগ্রহের কথা তুলে ধরেছেন। সামরিক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে এবার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্ববাজারে রপ্তানিতেও মনোনিবেশের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও ব্লু ইকোনমিসহ অন্তত ছয়টি খাতের বিষয়ে বিশেষ বার্তা দেন মোদি।
হাইপারসনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সপ্তধারা’র পঞ্চম শক্তি হলো প্রতিরক্ষা শক্তি। প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরশীল হওয়া আমাদের জন্য জরুরি। যখন সারা বিশ্ব শুধু নিজের কথাই ভাবছে, তখন ভারত কেবল বিশ্বের জন্য একটি বাজার হয়ে থাকতে পারে না। আমাদের বৈশ্বিক সরবরাহকারী হতে হবে। হাইপারসনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আমাদের নেতৃত্ব দিতে হবে।
তিনি ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থায় দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মোদি এসব সক্ষমতাকে ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেছেন। বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উদীয়মান সামরিক প্রযুক্তিতে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি তার ঘোষিত দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘সুদর্শন চক্র’-এর কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, প্রকল্পটির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো আকাশপথের হুমকি থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের লক্ষ্য শুধু নিজেদের প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণ করা নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ হয়ে ওঠা। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৫০ গুণ বেড়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ১০০টি দেশে ভারতীয় সামরিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও রপ্তানিকারক শক্তি হিসেবে উঠে আসার বৃহত্তর রূপান্তরের অংশ হিসেবেই বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১২ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন চারগুণ বেড়েছে। সার্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ১.৭৮ লাখ কোটি রুপিতে পৌঁছাবে, যেখানে ২০১৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার কোটি রুপি।
প্রতিরক্ষা খাতকে মোদি ‘শক্তি কি সপ্তধারা’ উদ্যোগের পঞ্চম ধারা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সাতটি ধারার এই কাঠামোয় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীলতা, পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি, দেশীয় উৎপাদন, রপ্তানি এবং বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০২১ সালের শুরুতে বিশ্বের চতুর্থ দেশে হিসেবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রধারী দেশগুলেঅর অভিজাত ক্লাবে যোগ দেয় ভারত। টানা কয়েক মাসের নিরলস গবেষণার পরে দেশে তৈরি হাইপারসনিক টেকনোলজি ডেমনস্ট্রেটর ভেহিকলের (এইচএসটিডিভি) সফল পরীক্ষা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছিল দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। ভারত ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের শুধু এই হাইপারসনিক প্রযুক্তি রয়েছে।
চলতি বছরের জুনে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘সুপারসনিক’ (শব্দের চেয়ে বেশি গতিবেগ সম্পন্ন) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মোস’ হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বা তারও বেশি দ্রুতগতির) স্তরে উন্নীত করার ঘোষণা দেয় ভারত। দেশটি এখনও কোনো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানি করেনি। তবে ফিলিপাইনের কাছে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মোস’ রপ্তানি করেছে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছেও র্যামজেট চালিত ক্ষেপণাস্ত্রটি বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে দিল্লি।


