ইউক্রেনে রুশ হামলায় ভারতীয় ওষুধ কারখানা বিধ্বস্ত, নিহত ১

ইউক্রেনের সুমি শহরে রুশ ড্রোন হামলায় ভারতের কুসুম গ্রুপের মালিকানাধীন একটি বড় ওষুধ কারখানা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হতাহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। হামলায় কারখানাটির মূল স্থাপনার বড় একটি অংশ প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুশ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, একই সময়ে কিয়েভের পিভনিচনি সেতু এবং দিনিপ্রোর একটি যোগাযোগ স্থাপনাতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় মোট ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
কুসুম গ্রুপের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। তখন প্রতিষ্ঠানটি ভারতের ওষুধ ইউক্রেনে রপ্তানি ও বিতরণের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করে। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক রাজীব গুপ্ত প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
২০০২ সালে কুসুম অন্য কোম্পানির পণ্য বিতরণ বন্ধ করে নিজেদের ব্র্যান্ডের ওষুধ বাজারজাত শুরু করে। এরপর প্রতিষ্ঠানটি ওষুধ উৎপাদনে প্রবেশ করে। ২০০৭ সালে ভারতে প্রথম উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পর ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমিতে একটি কারখানা চালু করা হয়। পরে ভারতে আরও দুটি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
কুসুম গ্রুপ বর্তমানে ৫০টির বেশি, প্রধানত জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করে। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও ফিলিপাইনসহ নয়টির বেশি দেশে বাজারজাত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ‘ভারতীয় শিকড়ের ইউক্রেনীয় কোম্পানি’ হিসেবে পরিচয় দেয়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পুরো সময়জুড়েই সুমির কারখানাটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলায় কারখানাটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৪০০ কোটি রুপি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দ্রুতগতির জেটচালিত শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করছে। তুলনামূলক কম খরচের এসব ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
এর মধ্যেই ইউক্রেন চলতি সপ্তাহে নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এফপি-৭-এর প্রথম যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবহার ঘোষণা করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বলে জানা গেছে।
