আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম পরিবর্তন করল নাউরু

ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য ছেড়ে নিজ ভাষার উচ্চারণে ফিরল প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু। বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম এই দেশটি তাদের সরকারি নাম পরিবর্তন করে ‘রিপাবলিক অব নাওয়েরু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন।
নাম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশটির আন্তর্জাতিক কোড ‘এনআরইউ’-এর পরিবর্তে হবে ‘এনআরও’। এ ছাড়া দেশটির নাগরিকদের এখন থেকে ‘নাউরুয়ান’-এর বদলে ‘দেই-নাওয়েরু’ নামে ডাকা হবে। আগে বিশ্বে দেশটিকে ‘নাউরু’ নামে উচ্চারণ করা হলেও নতুন নামটির সঠিক উচ্চারণ হবে ‘নাওয়েরু’। বার্তা সংস্থা এপি মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে।
দেশটির সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, বিদেশিদের উচ্চারণের সুবিধার্থে এতদিন মূল নাম ‘নাওয়েরু’ সংক্ষেপ করে ‘নাউরু’ ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মানের সঙ্গে ধরে রাখতে সংবিধানে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত থাকলেও ব্যাপক আলোচনার পর নাম পরিবর্তনের জন্য গণভোটের প্রয়োজন নেই বলে জানায় সরকার। কারণ ‘নাওয়েরু’ শব্দটি ইতোমধ্যেই দেশটির জাতীয় প্রতীক ও সংবিধানে স্বীকৃত।
টুভালু ও ভ্যাটিকান সিটির পর মাত্র ১২ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটি বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র। ১৯৬৮ সালে স্বাধীন হওয়ার আগে প্রবালদ্বীপে গঠিত এই অঞ্চলটি জার্মানির ঔপনিবেশিক শাসনে ছিল এবং পরে অস্ট্রেলিয়া এটি পরিচালনা করত।
১৯৭০-এর দশকে ফসফেট খনি থেকে বিপুল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এলেও ১৯৯০-এর দশকে শিল্পটি ধসে পড়ে দেশটিকে চরম সংকটে ফেলে দেয়। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশটি নাগরিকদের স্থানান্তরে অর্থায়িত নাগরিকত্ব কর্মসূচি চালু করেছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিকে ঔপনিবেশিক অতীত ছেড়ে ঐতিহ্যে ফেরা দেশগুলোর তালিকায় দেখা যাচ্ছে, যেমনটা ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড তাদের নাম পরিবর্তন করে ‘এসওয়াতিনি’ করেছিল এবং ২০২২ সালে তুরস্ক তাদের আন্তর্জাতিক নাম ‘তুর্কিয়ে’ করেছিল।
ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দূতাবাসগুলো তাদের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে দেশটির নতুন নাম ‘নাওয়েরু’ নথিভুক্ত করেছে। শিগগিরই দেশটির বিমান ও জাহাজের গায়েও নতুন নামটি যুক্ত হতে যাচ্ছে।
