বিশ্বে ২ কোটি শিশু অনলাইনে যৌন নির্যাতনের শিকার: ইউনিসেফ

বিশ্বের ২১টি দেশে এক বছরে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি অন্তত ২ কোটি শিশু অনলাইনে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ হিসাবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে প্রায় একজন অনলাইনে কোনো না কোনোভাবে যৌন নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে সংঘটিত এসব অপরাধের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের প্রতিবেদনে।
‘শিশুদের চোখে: কীভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি শিশু যৌন নির্যাতনকে সক্ষম করে’ শীর্ষক নতুন এই প্রতিবেদনে ২১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ওপর পরিচালিত সমীক্ষা এবং ভুক্তভোগী ১০০ জন তরুণের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তথ্য সংকলিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় দেড় কোটির বেশি শিশু অনিচ্ছাসত্ত্বেও যৌন উপাদনমুক্ত বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হয়েছে। অন্যদিকে ৯০ লাখ শিশুকে বাধ্য করা হয়েছে যৌন চ্যাট বা নিজ দেহের ছবি পাঠাতে।
তাদের অনুমতি ছাড়া প্রায় ৪০ লাখ শিশুর সংবেদনশীল ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব অপরাধের ৬০ শতাংশই ঘটেছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আর ১৪ শতাংশ ঘটেছে অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ৫৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিচিত ব্যক্তি (যেমন সমবয়সী, বন্ধু, প্রেমের সঙ্গী বা পরিবারের সদস্য) জড়িত ছিল। আর বাকি ৩৮ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী অনলাইন ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা প্রাইভেট মেসেজিংয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো অপরাধীর সংস্পর্শে এসেছে।
মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনভিত্তিক যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা, আত্মহত্যার চিন্তা ও নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা সাধারণ শিশুদের তুলনায় অন্তত চার গুণ বেশি। মেক্সিকো ও উত্তর মেসিডোনিয়ায় এই মানসিক ঝুঁকির মাত্রা আট গুণেরও বেশি এবং পাকিস্তানে সাত গুণেরও বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বৈশ্বিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনলাইনে শিশুরা পড়াশোনা, খেলাধুলা ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের যে ডিজিটাল পরিসর ব্যবহার করে, সেখানেই অন্তত দুই কোটি শিশু অবাঞ্ছিত যৌন বার্তা বা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। অনেকেই নীরবে কষ্ট সইছে এবং কার কাছে সাহায্য চাইবে তা বুঝতে পারছে না।’

